অভিযানে বিরক্ত ব্যবসায়ীদের সাথে চেম্বার সভাপতির বৈঠক

ছবি: আগামীর সময়
‘ব্যবসা বাঁচলে কর্মসংস্থান বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে’ এমন ব্যানারে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হকের সাথে বৈঠক করেছেন সুটস বেকারি এন্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের নেতারা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হকের কাছে দাবি জানিয়ে বললেন, ‘ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য যে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে, একই আইন যেন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। একদিকে হোটেল-রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানো হলেও ফুটপাতের স্ট্রিটফুড ও লাইভ বেকারিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে একইভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয় না।’
‘আজকের যুগ মিডিয়ার যুগ। ফেসবুক ও অনলাইনে সবকিছু মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। ছোটখাটো ত্রুটিকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। কোনো খাবারে একটি মাছি পাওয়া গেলে সেটিকে জুম করে এমন ভাবে প্রচার করা হয় যেন মানুষ আতকে উঠে। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ক্রেতা হারাতে হচ্ছে।’
সভায় ব্যবসায়ী নেতা শহিদুল্লাহ কুরাইশী বললেন, ফ্রিজে তালা লাগানো থাকাসহ বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করেও জরিমানা করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আরেক ব্যবসায়ী জানান, একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতে প্রায় ১২ ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ফলে ব্যবসা শুরু করার পর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার অভিযান ও পরিদর্শনের মুখোমুখি হতে হয়। কখনো সিটি করপোরেশন, কখনো ভোক্তা অধিকার, আবার কখনো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে করে যখন যে পারছে তখন সে এসে অভিযানের নামে মামলা দিয়ে চলে যাচ্ছে। তারা এসব হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানান।
চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক জানালেন, 'জরিমানা করা হয় সংশোধনের জন্য। কিন্তু কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হলে সেই ব্যবসা টিকে থাকবে কীভাবে? আইন প্রয়োগ করতে হবে, তবে তা যেন ব্যবসাবান্ধব ও বাস্তবসম্মত হয়।’
খাদ্যের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে অভিযোগ এলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কীভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। কোনোভাবেই বেআইনিভাবে জরিমানা করা যাবে না।
সভায় ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়ে আমিরুল হক বললেন,‘ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো ব্যবসায়ীদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক আয়োজনেরও করা হতে পারে।’







