নির্বাচন নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের দুপক্ষে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

(ছবি : রনি দে, আগামীর সময়)
চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের দু’পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হলে শ্রমিকদের মধ্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে ভোটগ্রহণ নিয়ে নগরীর ঈদগাহ-বৌবাজার থেকে কদমতলী পর্যন্ত এলাকায় তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। সড়ক অবরোধের কারণে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আওতাভুক্ত চট্টগ্রাম আন্তঃজিলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন পদে নির্বাচন চলছিল। নগরীর ঈদগাহ এলাকার হালিশহর রোডের দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে।
ফেডারেশনের নির্বাচন উপকমিটির সদস্যরা জানালেন, মোট ভোটার ৩৫৬১ জন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক ভোট দেন। এরপর শ্রমিকরা দুই সভাপতি প্রার্থীর পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ মুসা বললেন, ‘যেখানে ভোট চলছিল সেটা ডবলমুরিং থানা এলাকায়। সেখানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের কারণে ভোটগ্রহণ দুপুর থেকে বন্ধ আছে। পুলিশ সেখানে অবস্থান করছে। শ্রমিকদের আরেকগ্রুপ সদরঘাটের কদমতলীতে এসে অবরোধ করেছে। নেতারা বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন।’
ফেডারেশনের নির্বাচন উপকমিটির প্রধান অলি আহমদ বললেন, ‘ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
নগরীর সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বললেন, ‘দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে শ্রমিকদের দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। তখন কে বা কারা গুজব রটিয়ে দেয় একজন সভাপতি প্রার্থীর সমর্থক চার শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এতে ভোটকেন্দ্র থেকে কদমতলী পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে রাস্তায় আড়াআড়ি করে বাস রেখে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নগরীর আরও কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন। নগরীর বিভিন্ন অংশে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী লোকজন।







