টিকার বয়সের আগেই হাম চট্টগ্রামের শিশুদের
- উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ৩০ শতাংশ শিশু
- বেশিরভাগই টিকা পায়নি

ছবিঃ আগামীর সময়
টিকা দেওয়ার বয়সের আগেই চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ শতাংশ শিশু। অপুষ্টি, ভিটামিন ঘাটতি এবং মায়ের কাছ থেকে এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না পাওয়ায় ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা হাম আক্রান্ত হচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা জানান। তবে বেশি বয়সী যারা ভর্তি হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই টিকা পায়নি।
সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হয় ৯ মাস বয়স থেকে। প্রথমটার পর শিশুরা দ্বিতীয় ডোজ পায় ১৬ মাস বয়সে। কিন্তু চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৯ মাসের কম বয়সী। দুই মাসের শিশুও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
চট্টগ্রামে আজ বুধবার পর্যন্ত ৭৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) সবচেয়ে বেশি ৩৯ জন ভর্তি আছে। একই হাসপাতালে চারজন শিশুর অবস্থা গুরুতর। তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছে।
‘নিউমোনিয়া, জ্বর ও র্যাশ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। আমরা হাম সন্দেহে চিকিৎসা দিচ্ছি। হামের পরীক্ষা একমাত্র ঢাকায় হয়। অনেক রোগীর নমুনা পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত চারজনের হাম পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে’, আগামীর সময়কে বলছিলেন হাসপাতালটির শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মুসা মিয়া।
টিকার বয়সের আগে হাম
চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৩০ শতাংশের বয়স ৯ মাস হয়নি। টিকা দেওয়ার সময় আসার আগেই হামের উপসর্গ বা হাম নিয়ে রোগী আসছে বলে জানাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালটিতে গতকাল মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন থাকা ৩৩ জন শিশুর মধ্যে ১০ জন ছিল ৯ মাসের কম বয়সী।
‘আমাদের দেশে হামের টিকার প্রথম ডোজ শুরু হয় ৯ মাসে। দ্বিতীয় ডোজ ১৬ মাস বয়সে পায়। ভর্তি রোগীদের অনেকে ৯ মাস আগেই আক্রান্ত হয়। সাধারণত শিশুরা মায়ের কাছ থেকে এন্টিবডি পায়। সেটা ৯ মাস পর্যন্ত থাকে। ওই সময়ের মধ্যে টিকা দিলে সেটার কার্যকারিতা পাওয়া যায় না। তাই ৯ মাস থেকে হামের টিকা দেওয়া হয়’, ব্যাখ্যা করেন অধ্যাপক মুসা মিয়া।
শিশুদের অপুষ্টির বিষয়ে এই চিকিৎসক তথ্য দেন, এখন কম বয়সী যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের মধ্যে অপুষ্টি, ভিটামিন ঘাটতি আছে। মায়ের কাছ থেকে এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পায়নি। এমনও হতে পারে বুকের দুধ পায়নি। মায়ের এন্টিবডি ছিল না।
চমেক হাসপাতালে পেকুয়া থেকে মোরসিনা নামে দুই মাসের এক শিশু হামের চিকিৎসা নিচ্ছে। হামের উপসর্গ নিয়ে পটিয়া থেকে ভর্তি হয় সৃজনী নামে পাঁচ মাসের অপর শিশু।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলমও স্বীকার করেছেন ৯ মাসের কম বয়সীরা হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার কথা। ‘মায়ের কাছ থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না পাওয়ার কারণেই টিকার সময়ের আগে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া হামের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াও একটা কারণ’, মন্তব্য করেন সিভিল সার্জন।
আতঙ্ক নয়
চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে একজন শিশু মারা গেছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন হাসপাতালে একই উপসর্গ নিয়ে আগে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। চমেকের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে আজ ছয়জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলছিলেন, ‘আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর যত্ন নিতে হবে। বুকের দুধ দিতে হবে। এ ছাড়া ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। তাহলে হামের কারণে চোখের যে সমস্যা হয় তা হবে না। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

