সিডিএ চেয়ারম্যান
চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট এলাকায় দিনে বসতে পারবেন না হকাররা

ছবি: আগামীর সময়
যানজট নিরসন ও নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় দিনে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।
তবে হকারদের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশের আদলে সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট স্থানে তাদের বসার সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ রবিবার বিকালে নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা হকারদের উচ্ছেদে অভিযান চালায় সিডিএ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।
নিউ মার্কেট এলাকার ফুটপাত ও মূল সড়কের একাংশ দখল করে জুতা, স্যান্ডেল, পোশাক এবং আপেল, কমলা, ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। সিডিএ চেয়ারম্যান নিজে উপস্থিত থেকে এসব ভাসমান দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাকে নিজ হাতে একটি অস্থায়ী কাপড়ের দোকান থেকে বসার কাঠের টুল সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে সিডিএ, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘নিউ মার্কেটের চারদিকে কোনো হকার থাকতে পারবে না। এখানে প্রতিনিয়ত যেসব ক্রেতা আসেন, তাদের চলাচলে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য এই এলাকা উন্মুক্ত থাকবে। যারা জিনিসপত্র সরাবে না, আমরা ট্রাকে করে তা নিয়ে যাব। এখানে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না।’
যানজটমুক্ত ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকক বা মালয়েশিয়ার মতো আমরাও হকারদের জন্য একটি সময় ও স্থান নির্ধারণ করে দেব। সিটি করপোরেশনের মেয়র, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বসে যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হকাররা সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট জায়গায় বসবেন এবং বিক্রি শেষে সবকিছু পরিষ্কার করে নিয়ে যাবেন। স্থায়ীভাবে চৌকি বা ত্রিপল টানিয়ে বসার কোনো সুযোগ থাকবে না।’
এর আগে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও শপিং মলের সামনেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, সেসব জায়গায় এরই মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নিউ মার্কেট এলাকাতেও এই সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে অভিযানে উপস্থিত হকার সমিতির নেতারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। হকারদের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মানব। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মহীন হয়ে পড়ব। ডালভাত খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য দ্রুত আমাদের একটি ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সিডিএ চেয়ারম্যান হকারদের আশ্বস্ত করে বলেন, কর্মসংস্থানের বিষয়টি তাদের মাথায় রয়েছে এবং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাধান বের করা হবে।




