‘ঘুষের টাকায়’ কোটিপতি সাবেক পুলিশ সার্জেন্টের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় চট্টগ্রামে পুলিশের সাবেক এক সার্জেন্টকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত তাকে মোট ৮৯ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধের আদেশ দিয়েছেন।
ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুদককে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি হয়েছিল পুলিশ সার্জেন্ট বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ রায় দিয়েছেন বলে জানালেন দুদকের পিপি মোহাম্মদ রেজাউল করিম রনি।
দণ্ডিত বেলায়েত হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। বর্তমানে অবসরে থাকা বেলায়েত আগে সিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে ছিলেন না। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, ২০০৯ সালে দুদকের দেওয়া নোটিসের জবাবে বেলায়েত হোসেন তার নিজের নামে ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। দুদকের যাচাইয়ে তার নামে পাওয়া যায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকার সম্পদ। ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকার সম্পদের তথ্য তিনি দুদকের কাছে গোপন করেন। এ ছাড়া দুদকের যাচাইয়ে বেলায়েতের মোট ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ শনাক্ত হয়।
পুলিশে চাকরির সুবাদে ‘দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে বেলায়েত এসব সম্পদ অর্জন করে বলে মামলায় অভিযোগ করে দুদক।
২০০৯ সালের ২০ জুলাই বেলায়েতের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনজুর আলম মামলা করেন। ২০১১ সালের ২৩ অক্টোবর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মোট ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আজ এ রায় দেওয়া হলো।
দুদকের পিপি মোহাম্মদ রেজাউল করিম রনি জানালেন, দুদক আইনের ২৭ (১) ধারায় আসামিকে ৩ বছর কারাদণ্ড ও ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও আনাদায়ে ৬ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।




