বলীখেলার প্রবর্তক জব্বারের নামে চত্বর উদ্বোধন

ঐতিহাসিক লালদীঘি মোড়ে ‘আবদুল জব্বার চত্বর’-এর উদ্বোধন করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
ঐতিহাসিক লালদীঘি মোড়ে ‘আবদুল জব্বার চত্বর’-এর উদ্বোধন করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আজ বুধবার দুপুরে সিটি কর্পোরেশনের নির্মিত নান্দনিক এ স্থাপনাটির ফলক করা হয় উন্মোচন। বলীখেলার প্রবর্তক আবদুল জব্বার সওদাগরের নামেই করা হয়েছে চত্বরটির নামকরণ।
গত বছর লালদীঘি মাঠে বলীখেলার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মেয়র শাহাদাত চত্বরটির নাম ঘোষণা দেন জব্বারের নামে করার। এবারের বলীখেলার আগেই বাস্তবায়ন করা হলো সেই ঘোষণা।
এবার ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা পা রাখছে ১১৭ বছরে। এ উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় লালদীঘির পাড়ে সিটি কর্পোরেশন গ্রন্থাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মেলা কমিটির প্রস্তুতি সভা।
আগামী ২৫ এপ্রিল শনিবার বিকেল ৪টায় লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে যথারীতি বলীখেলা। প্রতি বছর এ উপলক্ষে তিন দিনের মেলা বসলেও চলমান এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবার তা রাখা হয়েছে দুই দিনে সীমিত। শুক্র ও শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী মেলা এবং পাশের মুসলিম হাই স্কুলে পরীক্ষা কেন্দ্র থাকায় রবিবার ভোরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মেলা শেষ করার।
মেলা কমিটি জানিয়েছে, পুরো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মহানগর পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে বলীখেলার সূচনা করেন আবদুল জব্বার সওদাগর। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি এই খেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবকদের সংগঠিত ও প্রস্তুত করতেন।
এদিকে, বলীখেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন লালদীঘি মাঠ ও আশপাশে। কাজ চলছে ফুটপাত,সড়কদ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে দোকান সাজানোর। মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও গৃহসজ্জার সামগ্রী নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে এসে সাজাচ্ছেন পসরা ।
বগুড়া থেকে আসা সিরাজুল ইসলাম তাঁর বিখ্যাত টমটম খেলনা নিয়ে বসেছেন মেলায়। তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে অংশ নিচ্ছেন এই মেলায় এবং এবারের আয়োজন নিয়েও তিনি আশাবাদী।


