নান্নু-নোবেল-শহীদ-রুবেলের কাবাবের দোকান ‘রয়েল হাট’

ছবি: আগামীর সময়
শুক্রবার বিকেল। এমন দিনে পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে শহরের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও রেস্টুরেন্টে ঘুরতে বের হন অনেকে। কেউ নতুন স্বাদের সন্ধানে, কেউ আবার নির্দিষ্ট কোনো খাবারের টানে ছুটে যান প্রিয় রেস্টুরেন্টে। চট্টগ্রামের ভোজনরসিকদের কাছে তেমনই একটি পরিচিত নাম ‘রয়েল হাট’, যেখানে কাবাবের স্বাদ নিতে প্রতিদিনই ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ।
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির বাইরের খোলা জায়গাজুড়ে এই রেস্টুরেন্টের অবস্থান। এর পাশ দিয়েই গেছে ভিআইপি শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়ক। বিপরীতে রয়েছে পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন। পরিবেশও বেশ ব্যতিক্রমী। মূলত বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্টটি চালু থাকে। দিনের বেলায় স্থানটি ফাঁকা থাকে। দুপুরের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে খোলা আকাশের নিচে সাজানো হয় চেয়ার-টেবিল।
চারপাশে স্থাপিত বড় বড় ফ্যান থেকে আসে শীতল বাতাস। রেস্টুরেন্টের একটি ছোট অংশে ছাদ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও রয়েছে। লাল রঙের সাজসজ্জার পাশাপাশি সবুজের উপস্থিতি পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
জনপ্রিয় এ রেস্টুরেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তরতাজা খাবার পরিবেশন। অর্থাৎ দিনের খাবার দিনেই শেষ করা হয়। এখানে কোনো বাসি খাবার রাখা হয় না।
রয়েল হাটের মালিক জাতীয় দলের সাবেক চার ক্রিকেটার—মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, নুরুল আবেদীন নোবেল, শহীদুর রহমান এবং ফজলে বারী খান রুবেল। প্রায় ৩৪ বছর আগে তারা শখের বসে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন।
চিকেন টিক্কা, বিফ বটি, চিকেন চাপ, চিকেন লিভার ও ব্রেইন ফ্রাই এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার।
সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শহীদুর রহমান বলেন, ‘আমরা হক-হালালভাবে ব্যবসা করি। কম টাকায় যেন মানুষ তরতাজা ও ভালো খাবার খেয়ে সন্তুষ্ট থাকে, সেদিকেই আমাদের বেশি মনোযোগ। সর্বনিম্ন ১৮০ টাকায় এখানে পেট ভরে খাওয়া যায়।’
শুক্রবার বিকেলে পরিবার নিয়ে কাবাব খেতে এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিক। তিনি বলেন, ‘এখানে আসার পরিকল্পনা করেছে আমার স্ত্রী। শহরে অনেক রেস্টুরেন্ট আছে, কিন্তু কাবাবের কথা উঠলেই তার প্রথম পছন্দ রয়েল হাট। এখানকার স্বাদটা সত্যিই অন্যরকম।’
কাবাব উপভোগ করতে আসা আরেক ক্রেতা সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘বন্ধুদের কাছ থেকে এই রেস্টুরেন্টের কথা শুনেছিলাম। কয়েকবার খাওয়ার পর এখন মাঝেমধ্যেই এখানে আসি। কাবাবের স্বাদ, পরিবেশন ও মান—সবকিছুই বেশ ভালো লাগে।’
খাবারের মান ও স্বাদে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কারণেই রয়েল হাট কেবল একটি রেস্টুরেন্ট নয়, বরং কাবাবপ্রেমীদের জন্য একটি নির্ভরতার নাম হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের ছুটির দিনে এখানে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখা যায়। শুধু শুক্রবারই নয়, অন্যান্য সরকারি ছুটি কিংবা স্টেডিয়ামে খেলা চলার দিনেও কাবাবপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে এ রেস্টুরেন্টে।
রয়েল হাটের ম্যানেজার ভাস্কর বলেন, ‘রেস্টুরেন্টটির জনপ্রিয়তার মূল কারণ খাবারের মান বজায় রাখা। আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় আইটেম কাবাব। শুরু থেকেই আমরা মান ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। কারণ মান নষ্ট হয়ে গেলে ক্রেতাদের আস্থা কমে যাবে, কমে যাবে চাহিদাও।’
কাবাব প্রস্তুতে ব্যবহার করা হয় আদা বাটা, রসুন বাটা, পেঁয়াজ বাটা, শুকনো মরিচ বা চিলি ফ্লেক্স, গোলমরিচ, গরম মসলার গুঁড়ো, জিরা ও ধনে গুঁড়ো এবং সামান্য জয়ফল গুঁড়ো। এছাড়া টক দই, পেঁয়াজ বেরেস্তা, কুচি পেঁয়াজ, পরিমাণমতো লবণ, সরিষার তেল এবং কয়লার ধোঁয়ার বিশেষ ব্যবহার কাবাবে এনে দেয় অনন্য স্বাদ ও সুবাস।
চাপ-পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় কয়েক টুকরো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয় শসা ও দইয়ের মিশ্রণে তৈরি সালাদ, যা স্বাদে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।




