হালদার তীরে ১০২৯ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত, বিপন্ন ১২৩টি

ছবি: আগামীর সময়
হালদা নদীর দুই তীরে ১ হাজার ২৯টি উদ্ভিদ প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। এর মধ্যে ৫১৭টি ঔষধি প্রজাতির। এ ছাড়া বিপন্ন এবং বিপন্নের ঝুঁকিতে রয়েছে এ রকম ১২৩টি প্রজাতির উদ্ভিদও পাওয়া যায়। এগুলো সংরক্ষণের জন্য বেশি বেশি এসব প্রজাতির গাছ রোপণ এবং দুর্লভ উদ্ভিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গবেষকরা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বেসরকারি সামাজিক উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপিনিয়ন (ইকো)। জরিপ গবেষণাটির সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম)। এক বছর ধরে চলা এই গবেষণা গত মাসে শেষ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক (রাসেল)। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সভাপতি ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন। গবেষণা দলের অন্যান্যরা হলেন, মোহাম্মদ খন্দকার রাজিউর, সজীব রুদ্র, মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন, শহিদুল ইসলাম, টুকি মারমা, সনাতন চন্দ্র বর্মণ। বিএসআরএমের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রুনি রহমান।
গবেষণায় শনাক্ত উদ্ভিদের মধ্যে ৭৬৫টি স্থানীয় ও ২৪৪টি বিদেশি প্রজাতি। এ ছাড়া ১১২টি বড় বৃক্ষ, ১৩৩টি গুল্ম, ১৩৩টি লতা, ৫২২টি বীরুৎ ও ৯টি পরজীবী উদ্ভিদ রয়েছে। গবেষণায় বাটনা, লেইস্যা গর্জন, চাউ তাল, ঈশ্বরমূল, পাখা টেকিয়া ও পানিজামসহ বেশ কিছু বিপন্ন উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৭২৯টি উদ্ভিদ প্রজাতির প্রথম নথিভুক্তির তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষণায় হালদা দূষণের কারণও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, শিল্পবর্জ্য, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, প্লাস্টিক বর্জ্য, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদী খননের মাটি তীরে স্তূপ করে রাখা এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ আহরণ দূষণ ও পরিবেশগত সংকটের জন্য দায়ী। কর্ণফুলী নদীর দূষণও হালদার জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
হালদা রক্ষায় ইকো ১৩ দফা সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপন্ন উদ্ভিদ সংরক্ষণ, দেশীয় গাছ রোপণ, নদীর প্রাকৃতিক উদ্ভিদ আচ্ছাদন পুনরুদ্ধার, শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য শোধন, প্লাস্টিকদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নদী খননের মাটির পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা অন্যতম।
অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন বললেন, ‘নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে বিদেশি প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিবর্তে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী দেশীয় গাছ রোপণ করতে হবে। দুর্লভ প্রজাতির চারা রোপণে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। গাছ লাগানোর পর নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্বও নির্ধারণ করতে হবে। নদীর দুই তীরের উদ্ভিদ মাটির ক্ষয় ও ভাঙন রোধ এবং বৃষ্টির পানি মাটিতে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর তলদেশের জলজ পরিবেশ ও ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন-জুপ্ল্যাঙ্কটনের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব উপাদান পুনরুদ্ধারে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।’
বিএসআরএমের পক্ষ থেকে রুমিন রহমান বললেন, সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা বলেছে। তবে শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, কোন এলাকায় কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা বিবেচনা করতে হবে। বিপন্ন ও দুর্লভ উদ্ভিদের অবস্থান চিহ্নিত করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ গবেষণার তথ্য সরকারি পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।



