রাউজানে পিস্তল হাতে হুমকির ভিডিও ভাইরাল, তৎপর পুলিশ

চট্টগ্রামের অপরাধপ্রবণ রাউজান উপজেলার দুই চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী’ হৃদয় হোসেন শাওন ওরফে বুলেট ও আরাফাত মামুন। একসময় একসঙ্গে থাকলেও এখন তাদের মধ্যে তুমুল বিরোধ। এ বিরোধের জেরে একাধিক পিস্তল সামনে রেখে হুমকি দেওয়া হৃদয়ের একটি ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস করে দিয়েছেন মামুন।
ভাইরাল হওয়া এ ভিডিও আতঙ্ক তৈরি করেছে মানুষের মনে। তৎপর হয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, ভিডিওতে পিস্তলের সংখ্যা মোট সাতটি। এর মধ্যে কয়েকটি স্বয়ংক্রিয়। কয়েকটি খেলনা। পুরনো একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে 'মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী' নামে একটি আইডি থেকে ফেসবুকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। ক্যাপশনে অস্ত্রগুলো ‘বাদশার ছেলে হৃদয়ের’ উল্লেখ করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, ‘মামুন চেয়ারম্যান’ মানে তিনি নির্বাচিত কোনো চেয়ারম্যান নন। নাম আরাফাত মামুন। রাউজানের ১৪ নম্বর বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হৃদয় ও মামুনের বাড়ি একই ইউনিয়নে।
রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘দুজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে থানায় মামলা আছে। দুজনই গ্রেপ্তার হয়েছিল। এখন জামিনে আছে। জেল থেকে বেরিয়ে দুজন একসঙ্গে ছিল। মাসখানেক আগে হৃদয়ের বাবা বাদশাকে মারধর করেন মামুন। এরপর তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বাদশাও হত্যা মামলার আসামি। গ্রেপ্তার হয়ে জেলে ছিলেন। এখন জামিনে আছেন।’
চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানালেন, হৃদয়কে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার মোবাইলে ভিডিওটি পেয়েছিল পুলিশ। সেটি তখন ডিলিট করে দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি জামিনে মুক্ত হন। গত জুলাইয়ে আবার আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।’
‘২০২৪ সালের আগস্টের পর রাউজানে একেবারে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছিল। সন্ত্রাসী হৃদয় তখন আসল ও খেলনা মিলিয়ে কয়েকটি পিস্তল নিয়ে ভিডিও করে মোবাইল ফোনে জমা রাখে। গ্রেপ্তারের পর জানিয়েছিল, সেগুলো তার অস্ত্র নয়। অন্য সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ভিডিও করে রেখেছিল। ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে চাঁদা আদায় করত। পরে নোয়াপাড়া থেকে আমরা দুটি পিস্তল উদ্ধার করেছিলাম,’— যোগ করলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধের জেরে মামুন এখন হৃদয়ের সেই পুরনো ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানালেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত।
‘হৃদয়ের বাবা বাদশাও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। মামুন এজন্য তাকে মারধর করেন। হৃদয় এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মামুনের গ্রুপ ত্যাগ করেন। তার কাছে নিশ্চয় হৃদয়ের পুরনো ভিডিওটি ছিল। এখন তিনি এটা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
ভিডিওতে এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘খেলা দেখেছ কোথায়?….প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্বসহ শেষ করে দেব। তোদের জন্য এনেছি, টাকা দিয়ে এনেছি, মরণের টিকিট। সময় থাকতে ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর।’
কণ্ঠস্বরটি হৃদয়ের বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন। বললেন, ‘ভিডিওর অস্ত্রগুলোর মধ্যে পুলিশের কাছ থেকে লুট করা কোনো অস্ত্র নেই। রাউজানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান চলমান আছে।’
এ বিষয়ে মামুন ও হৃদয়ের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।




