ক্যামেরা চুরি করে ‘অপহরণের নাটক’ আলোকচিত্রীর

গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী মোহাম্মদ রেদুয়ানুল হক
দোকান থেকে ক্যামেরা চুরির ‘অপরাধ’ আড়াল করতে ‘অপহরণের নাটক’ সাজিয়েছিলেন আলোকচিত্রী মোহাম্মদ রেদুয়ানুল হক। তবে পার পাননি। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সব গোমড় ফাঁস করে দিয়েছে।
ঘটনাটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা এলাকা থেকে রেদুয়ানুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩৫ বছর বয়সী রেদুয়ানুল হকের বাড়িও লোহাগাড়ায়।
গত ৯ অক্টোবর রাতে উপজেলার আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামে একটি দোকান থেকে চারটি ক্যামেরা, আটটি ল্যান্সসহ প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। পরদিন ঘটনা জানার পর প্রতিষ্ঠানের মালিক বাবলু পাল থানায় অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে রেদুয়ানুলকে শনাক্ত করে। কিন্তু ১২ অক্টোবর তার স্ত্রী রেশমী আক্তার লোহাগাড়া থানায় তার স্বামীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা করেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বললেন, ‘চুরির ঘটনায় রেদুয়ান আমাদের কাছে অন্যতম সন্দেহভাজন ছিলেন। পরে তার স্ত্রী যখন অপহরণের মামলা করলেন আমাদের সন্দেহ আরও বাড়ল। এর মধ্যে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। আমরা গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’
‘রেদুয়ান পেশাদার ফটোগ্রাফার। ওয়েডিং ফটোগ্রাফির মালিকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। এর সুবাদে তার দোকানটিতে যাতায়াত ছিল। সেটাকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে তিনি বিভিন্ন মালামাল চুরি করেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার বাড়ি থেকে চুরির মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’
রেদুয়ানুলের পরামর্শে তার স্ত্রী ‘জেনেশুনে’ অপরাধের ঘটনা আড়াল করতে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানালেন।




