প্রকল্প জালিয়াতি: চসিকের সাবেক কর্মকর্তাসহ ৩ জন কারাগারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বহুল আলোচিত পোর্ট কানেক্টিং সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
কারাগারে পাঠানো অপর দুজন হলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) লিমিটেডের সাবেক কুমিল্লা শাখাপ্রধান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এবং এনআরবি ব্যাংকের একই শাখার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মোকাররম হোসাইন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে। আজ তিন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার প্রধান আসামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চসিকের পোর্ট কানেক্টিং সড়কের অলংকার থেকে নিমতলা পর্যন্ত একটি অংশের সংস্কারকাজের কার্যাদেশ পেয়েছিল মেসার্স রানা বিল্ডার্স অ্যান্ড সালেহ আহমেদ (জেভি)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করেন মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন। ওই জাল দলিলের ভিত্তিতে নিজেকে রানা বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তিনি চসিকের কার্যাদেশ নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এরপর জাকির হোসেন ইউসিবিএলের কুমিল্লা শাখায় রানা বিল্ডার্সের নামে একটি ভুয়া চলতি হিসাব খোলেন এবং সেখান থেকে ২০ কোটি টাকা ঋণ নেন। সুদসহ ওই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৫৪ লাখ ৯২ হাজার ৮১৯ টাকা। শর্ত ছিল, চসিকের বিল থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ঋণ সমন্বয় করা হবে। পরে এনআরবি ব্যাংকের কুমিল্লা শাখায় আরেকটি হিসাব খোলা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চসিকের নথি অনুযায়ী, কাজের বিলের টাকা ইউসিবিএলের কুমিল্লা শাখায় পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নিয়মবহির্ভূতভাবে এনআরবি ব্যাংকের অনুকূলে ছয়টি চেক ইস্যু করেন। এসব চেকের মাধ্যমে অর্থ তুলে আত্মসাৎ করা হয়।
এ ঘটনায় জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(ক) ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।
এদিকে প্রকল্পটি ঘিরে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা আছে। কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সময়ে ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে সাইফুদ্দিন বিপাকে পড়েন।
তাদের দাবি, ঠিকাদার কুমিল্লার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। কাজ না করেই প্রায় ৬৮ কোটি টাকা বিল তুলে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান বলেও অভিযোগ আছে। এ ঘটনায় সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা হয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




