চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গেট খুলে শিক্ষার্থীদের মিছিল

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের গেট খুলে মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা— রনি দে
তিন দফা দাবিতে এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষা বোর্ডের মূল ফটক ভেঙে মিছিল করে তারা। পরে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সড়ক ছেড়ে যান শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা এবং পরে বিকাল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকার সিডিএ অ্যাভিনিউ ও বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। একপর্যায়ে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে শিক্ষা বোর্ডের সামনে শিক্ষামন্ত্রীর গায়েবানা জানাজা পড়েন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও চিত্র অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকে আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। বিকাল ৫টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে প্রবেশ করে প্রধান ফটকের একটি লোহার গেট ভেঙে ফেলেন। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী গেটটি হাতে ও মাথায় তুলে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে সড়ক ধরে মিছিল করে ২ নম্বর গেটের দিকে এগিয়ে যান।
গেট ভাঙার বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বললেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নেই। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রবেশপত্রের বিষয়ে আবেদন এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
গেট ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তারা তো আমাদেরই সন্তানতুল্য। তাদের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
বেলা ১১টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে প্রথম অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে একাংশ স্মারকলিপি দিয়ে ফিরে গেলেও অন্য একটি বড় অংশ বিক্ষোভ চালিয়ে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে ষোলশহর ২ নম্বর গেট মোড়ে অবস্থান নিলে বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক ও সিডিএ অ্যাভিনিউ দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। সড়ক অবরুদ্ধ হওয়ায় পথচারী, সাধারণ যাত্রী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পণ্যবাহী যানবাহন ভোগান্তির শিকার হয়। রোগীবাহী কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকেও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো— সারা দেশে প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা একই সময়ে নিতে হবে। কোনো বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত রেখে অন্য বোর্ডে চালানো যাবে না। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বন্যার কারণে গত সোমবার যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য আবার পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যায় বই-খাতা, প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারানো শিক্ষার্থীদের দ্রুত নতুন করে এসব সরবরাহ করতে হবে এবং প্রশ্নপত্রে ভুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
সরকারি সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বললেন, ‘আমরা পরীক্ষা দিতে ভয় পাই না। কিন্তু দেশের এক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দুর্যোগে ভাসবে আর অন্য অঞ্চলে পরীক্ষা চলবে-এমন বৈষম্য মানা যায় না। প্রশ্নপত্রের ভুলের দায়ভারও বোর্ডকে নিতে হবে।’
চট্টগ্রাম কলেজের পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলছিলেন, ‘বন্যায় অনেকের ঘরবাড়ি ও প্রবেশপত্র পানিতে তলিয়ে গেছে। এমন মানসিক চাপের মধ্যে জোর করে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
বিক্ষোভ চলাকালে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে চলে গেছে।’
বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন গত ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল, তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলমান ছিল। এই বৈষম্যের অভিযোগ তুলেই আন্দোলনে নামেন চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা, যা পরবর্তী সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রূপ নেয়। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।





