বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-কালভার্ট মেরামতে লাগবে ৪২৩ কোটি টাকা
- কৃষিতে ক্ষতি সাড়ে ৪৪ হাজার হেক্টর জমি
- মৎস্য খাতে ক্ষতি ২১০ কোটি টাকা

ছবি: আগামীর সময়
বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করেছে সরকার।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কৃষি খাতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ৭৯৩ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা আনুমানিক ২ লাখ ৮ হাজার ৭৩৫ জন। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চট্টগ্রাম বিভাগের তথ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি- এই পাঁচ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা প্রায় ৮৪৬টি। যার মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন সড়ক ২১টি। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫৫ কিলোমিটার। আর এপ্রোচ রোডসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্টের সংখ্যা প্রায় ২৩৫টি। এসব মেরামতে আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ৪২৩ কোটি টাকা।
বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই এমন সড়কগুলোর মেরামতকাজ চলমান আছে এবং আগামী দু-এক মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কের পরিমাণ ২১২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার, পাশাপাশি পাঁচটি ব্রিজ ও একটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার সড়কে শুরুর দিকে প্রায় ৪০০ মিটার অংশ পানিবন্দি থাকায় যোগাযোগ কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিল, তবে বর্তমানে তা স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের আন্তঃজেলা সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়েছে, শুধু বান্দরবান থেকে রাঙামাটি পথে বৃষ্টির কারণে সমস্যা চলমান আছে, যা আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সমাধানের আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। রেল চলাচল স্বাভাবিক আছে বলেও জানান তিনি।
মৎস্য খাতে প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, ২৩ হাজার ৬১০টি পুকুর, দিঘি বা খামার এবং ৭৮৯টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। এই খাতে আনুমানিক অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ২১০ কোটি টাকা বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাতামুহুরী উপজেলা। রাঙামাটি জেলায় বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও কাপ্তাই। খাগড়াছড়ি জেলায় দীঘিনালা, মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও মাটিরাঙ্গা। বান্দরবান জেলায় বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও রুমা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি গৃহনির্মাণ ও সংস্কার অনুদান দেওয়া হবে। প্রান্তিক ও অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে ভিজিডি, ভিজিএফ ও কর্মসৃজন কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হবে, পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট শুধু মেরামত নয়, ভবিষ্যতে বন্যা মোকাবিলার উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৭ জুলাই থেকে খুলে দেওয়া হবে। রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র এরই মধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে এবং খাগড়াছড়ির সব পর্যটনকেন্দ্র খোলা আছে। বন্যাকবলিত এলাকায় জুলাই মাসের এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (ওএমএস) এক মাস এগিয়ে এই মাস থেকেই শুরু করা হচ্ছে।




