চট্টগ্রাম
শহর পরিষ্কারে ৩২০০ কর্মী, তদারকিতে মেয়র

শহরে পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকিতে মেয়র শাহাদাত। ছবি: আগামীর সময়
ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজির পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। পশু কোরবানি শুরু হতেই বর্জ্য সরাতে সকাল থেকে ব্যস্ত তারা। প্রাণান্ত চেষ্টা, বর্জ্য যেন ছড়িয়ে না পড়ে। অলিগলি ঘুরে ঘুরে এসব সংগ্রহ করে মূল সড়কে আনছেন তারা।
ঈদুল আজহার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ব্যস্ততা। ঈদের নামাজ আদায় শেষ করেই তাদের কার্যক্রম তদারকিতে নেমে গেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশ আগেই এবার ভোর থেকে পাড়া-মহল্লা ও সড়কে কোরবানি শুরু হয়। নগরীর ভিআইপি টাওয়ার জামে মসজিদে ঈদের নামাজ শেষ হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। এরপরই কাজির দেউড়ি, এস এস খালেদ রোডে বিভিন্ন ভবনের সামনে পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে।
সকাল ৮টার দিকে নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে গিয়ে কোরবানি চলতে দেখা গেছে। এর আগেই কোরবানির বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে সড়কের বিভিন্নস্থানে। দেখা গেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তৎপরতাও।
জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ময়দানে ঈদের নামাজ শেষে আশপাশের কয়েক এলাকা ঘুরে সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম বাকলিয়ায় যান মেয়র। কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
‘বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে যেটা দেখলাম, আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা জবাইয়ের স্থান থেকে ময়লাগুলো নিয়ে এক জায়গায় স্তূপাকারে রাখছেন। কিছু বর্জ্য জমা হলে সেগুলো ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে দ্রুত জবাইয়ের স্থানটা ক্লিন করে ফেলা হচ্ছে। দুপুর ২টা থেকে আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু হবে। আমরা ৬ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। অর্থাৎ রাত ৮টার মধ্যে পুরো শহরের ৪১টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ করা হবে’— বললেন সিটি মেয়র।
চসিকের নিজস্ব ৩২০০ জন কর্মী তিনশর বেশি যানবাহন ও ৪১টি বিশেষ গাড়ি নিয়ে বর্জ্য অপসারণে কাজ করছেন।
সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা বললেন, ‘ডাম্প ট্রাক, কম্পেক্টর, পে লোডার মিলিয়ে ৩৭৯টি গাড়ি মাঠে আছে। এখন পর্যন্ত কোনো অসুবিধা আমরা দেখছি না। সুন্দরভাবেই বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
গত বছরের মতোই এবার কোরবানি হয়েছে, জানালেন তিনি। ‘গত বছর আমরা ১০ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের টার্গেট নিয়েছিলাম। ৯ হাজার টনের কিছু বেশি হয়েছিল। এবারও তেমনই হবে বলে আমাদের ধারণা। বৃষ্টি না থাকায় ভালোই কোরবানি হয়েছে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য, এবার নগরী ও জেলা মিলিয়ে সোয়া ৭ লাখের মতো পশু কোরবানির সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে গরু-মহিষ সোয়া ৫ লাখের মতো। ছাগল-ভেড়া মিলিয়ে আরও ২ লাখ কোরবানি হতে পারে। ঈদের এক সপ্তাহ পর এর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তারা প্রকাশ করবেন।
বর্জ্য অপসারণ-সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য দামপাড়া অফিসে খোলা হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। সেখানে দুটি হটলাইন নম্বর ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।






