ইলিশের দেশে ইলিশ এখন বিলাসিতা

ইলিশ— আগামীর সময়
টানা ঝড়-বৃষ্টি ও সাগরে দফায় দফায় সতর্কতা সংকেতের কারণে জুলাই মাসজুড়ে বৈরী আবহাওয়ার ধকল পোহাতে হয়েছে উপকূলের জেলেদের। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় পর চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে ঢুকতে শুরু করেছে বহুল প্রত্যাশিত ইলিশ মাছ। এই ভরা মৌসুমেও চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে 'জাতীয় মাছ ইলিশ'।
ব্যবসায়ীরা জানান, জুলাইজুড়ে সাগর উত্তাল থাকায় ও সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জেলেরা ঠিকমতো মাছ আহরণ করতে পারেননি। ফলে বাজারে সব ধরনের মাছের সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম ছিল।
অবশেষে বাজারে নতুন রূপালি ইলিশের দেখা মিললেও এর দামের উত্তাপ যেন কমছেই না। তবে বিক্রেতারা বাজারে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেলে ইলিশের দাম যতটা সম্ভব কম হাঁকান। তাদের মতে, সংবাদ মাধ্যমে সঠিক দাম প্রচার হলে সাধারণ ক্রেতা হয়তো বাজারে আসতেই দ্বিধা করবে। তাই ক্রেতারা যাতে বাজারবিমুখ না হন, সেজন্য সাংবাদিক দেখলে ইলিশের দাম নিয়ে কিছুটা কৌশলী হয়ে উঠি।
আর কেজিতে ২ থেকে ৩টি ধরে এমন ছোট-মাঝারি ইলিশের দাম বিক্রেতাদের মতে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। এছাড়া স্থানীয় 'টং জালের' বা সামুদ্রিক ছোট সাইজের ইলিশ কিছুটা কম দামে মিললেও স্বাদে ও মানে পার্থক্য থাকায় চাঁদপুরের ইলিশেরই চাহিদা বেশি।
মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন জানান, 'দাম কিছুটা কমলে আমাদের কাস্টমার বাড়ে এবং বিক্রিও ভালো হয়। তবে এবার ইলিশের দাম গত বছরের তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি।'
বিক্রেতারা কাস্টমার ধরে রাখতে যে দামের হিসেব দিচ্ছেন, বাস্তবে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, সাংবাদিক দেখে ব্যবসায়ীরা কম বলছেন, বাস্তবে দরদাম করে মাছ কিনতে গেলে প্রতি কেজিতে গুণতে হচ্ছে আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি।
চাকরিজীবী শফিকুর রহমান বললেন, ‘একসময় এই ইলিশ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই ছিল। ভরা সিজন এলে ঘরে ঘরে ইলিশের আমেজ লক্ষ্য করা যেতো। কিন্তু এখন বাজারে এসে পকেটের সাথে পণ্যের দামে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
বাজার করতে এসে গৃহিনী তানজিয়া দোলা জানান, ‘ইলিশের দেশে ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের অনেকটাই বিলাসিতা। পুরো সিজন মিলে হয়তো এক বা দুইবার ইলিশ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। সাগরে ধরা পড়া এতো ইলিশ যায় কোথায়?’







