চট্টগ্রামের কামারপাড়ায় বাড়ছে ব্যস্ততা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কামারপাড়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য দা, চাপাতি, ছোরা, বটি তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামে শান দেওয়ার কাজও চলছে পুরোদমে।
নগরের ফিরিঙ্গিবাজার, জেল রোড, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারের দোকানগুলো। দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের দা, চাপাতি, ছোরা ও বটি। ভেতরে আগুনে লোহা পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন সরঞ্জাম।
কামাররা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এবার লোহার দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে দা, চাপাতি, বটি ও ধামার দামও বেড়েছে। আকার ও ওজনভেদে এসব সামগ্রী ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল প্রায় ৬০০ টাকা। ছোট ছোরা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। বড় ছোরার দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া পশুর চামড়া ছাড়ানোর বিশেষ ছোরা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।
ক্রেতাদের মতে, বাজারের রেডিমেড সরঞ্জামের তুলনায় কামারদের তৈরি দা-ছোরা বেশি টেকসই হয়। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের আগের রাত পর্যন্ত এ বেচাকেনা ও কাজের ব্যস্ততা চলবে।
ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার কারিগর শিমুল দাস জানিয়েছেন, প্রায় ৩৬ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে জড়িত। সারা বছরের মধ্যে ঈদের আগের সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি কাজের চাপ থাকে। বিশেষ করে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততাও বেড়ে যায়।
তার ভাষ্য, নতুন জিনিস কেনার চেয়ে এবার মানুষ পুরোনো দা-ছোরা ঝালাই ও ধার করাতেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির পশু কেনার আগেই অনেকে প্রস্তুতি হিসেবে দা-ছুরি শান দিয়ে নিচ্ছেন।
সাফিম নামের এক ক্রেতা জানিয়েছেন, ঈদের দুই দিন আগে গরু কিনবেন। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে তিনি ধার করাতে এসেছেন।






