নতুন ফরম্যাটে আবার সক্রিয় আলবদর বাহিনী : শাহ আলম

ছবি: আগামীর সময়
দেশে নতুন ফরম্যাটে একাত্তরের আলবদর বাহিনী আবার সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করলেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাম নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা-চট্টগ্রাম’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন করা হয়েছে।
মানববন্ধনে সিপিবির প্রাক্তন সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বললেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আমরা মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা দিতে দেখেছি। ইউনূসের সরকার এর কোনো বিচার করেনি। বরং প্রশ্রয় দিয়েছে। এখন নির্বাচিত সরকারের আমল। এখন দেখছি মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন-কাফনেও বাধা দিচ্ছে। একদিকে রাষ্ট্র প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিচ্ছে। আরেকদিকে একাত্তরের ঘাতকচক্র সেই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করতে দিচ্ছে না। স্বাধীন দেশে পরাজিত শক্তি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা দিচ্ছে। কত বড় দুঃসাহস !’
একাত্তরের ঘাতকচক্রের উত্তরসূরিরা মুক্তিযুদ্ধকে আঘাত হানার দুঃসাহস কোথায় পাচ্ছে জানতে চেয়ে তিনি বললেন, ‘একাত্তরে কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনী গঠন করেছিল জামায়াতে ইসলামী। সেই স্কোয়াড আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের রাতের অন্ধকারে চোখ বেঁধে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। আলবদর বাহিনীর সেই নৃশংস আজ আমরা আবার নতুন ফরম্যাটে দেখতে পাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর পর আলবদরের উত্তরসূরিরা অন্যরূপে অন্যফর্মে আবার সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছে।’
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে শাহ আলম বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের বদান্যতায় কয়েকটা সিট পেয়ে বিরোধীদলের আসনে বসেছেন বলে এত স্পর্ধা দেখাবেন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত এলে দেশ আবার নতুন করে জ্বলে উঠবে। আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করুন।’
‘মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের দল বিএনপিকে বলব মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। দলমত নির্বিশেষে সব মুক্তিযোদ্ধাকে আজ এক কাতারে আসতে হবে। নতুন ফরম্যাটে সক্রিয় হওয়া আলবদরকে আবার পরাজিত করতে হবে।’
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান বললেন, ‘ঘুমিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা আবার জেগে উঠুন। আমাদের মরার কোনো ভয় নেই। একাত্তর সালেই আমরা মৃত্যুভয়কে পরাজিত করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আজ আমাদের দলমত সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কোনো কাজ করেনি। বরং চেতনাবিরোধীদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এজন্য স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই পরাজিত শক্তিকে আমাদের আবার পরাজিত করতে হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা বললেন, ‘এ দেশের সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। গত সংসদ নির্বাচনে এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীপক্ষ নানা শক্তির আনুকূল্য পেয়ে ক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছিল। সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করেছে। এখন আবার মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা যে স্পর্ধা দেখাচ্ছে, সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের রুখে দিতে হবে।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা উদয়ন নাগ, মাহবুব মিন্টু ও বালাগাত উল্লাহ এবং উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক অমল কান্তি নাথ। মানবন্ধনের পর বিক্ষোভ মিছিল করেন মুক্তিযোদ্ধারা।




