সাগরপথে মিয়ানমারে জ্বালানি তেল পাচারে রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট!

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম থেকে সাগরপথে মিয়ানমারে পাচারের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেল। এ কাজে দেশীয় পাচারকারীদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক চক্র এমন তথ্য জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাংলাদেশে যেখানে এক লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১০০ টাকা, সেখানে মিয়ানমারে একই পরিমাণ ডিজেলের দাম ৪০০ টাকারও বেশি।
মিয়ানমারের জ্বালানি সেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি লিটার ডিজেল ৫৬০০ কিয়েট ও প্রিমিয়িম ডিজেল ৬৮০৫ কিয়েটে বিক্রি হচ্ছে। মিয়ানমারের ৫ হাজার কিয়েটের বিনিময়ে বাংলাদেশে পাওয়া যায় ২৯২ টাকা। এই মূল্য ব্যবধানকে কাজে লাগিয়েই পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সার, কীটনাশক, সিমেন্ট, ওষুধ, আলুসহ আরও কিছু পণ্য মিয়ানমারে পাচারের তালিকায় যুক্ত ছিল। বিশ্বজুড়ে সংকটের মধ্যে মিয়ানমারে পাচারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলও। মূলত দেশে দাম কম থাকায় প্রতিবেশী দেশটিতে জ্বালানি তেল পাচারের প্রবণতা বাড়ছে।
সম্প্রতি সাগরপথে পাচারের একটি বড় চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত শনিবার প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল ও চারটি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গা ও ৪ বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জনকে আটক করা হয়।
এর আগে মার্চ মাসে নৌপুলিশ হাতিয়ার নলছিড়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫৪০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলোও মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহমেদ বলেছেন, ‘জ্বালানি তেল পাচারের ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি মাছ ধরার ট্রলারে অভিযান চালিয়ে পাটাতনের নিচে প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করা হয়। বাইরে থেকে ট্রলারটি সাধারণ জেলেদের বলে মনে হলেও তল্লাশিতে পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা ট্রলার নিয়ে টেকনাফের নাফ নদীর দিকে যাচ্ছিলেন। সেখানে অন্য একটি নৌকায় ডিজেল হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফের জামতলি ক্যাম্প থেকে ৮ রোহিঙ্গাকে এনে চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার ফিশারিঘাট থেকে জ্বালানি তেল ট্রলারে তোলা হয়। পরে সাগরে যাওয়ার সময় কোস্টগার্ডের অভিযানে তারা ধরা পড়ে।
তবে আটক রোহিঙ্গারা দাবি করেছেন, তাদের মাছ ধরার কাজের কথা বলে আনা হয়েছিল এবং দৈনিক ৩ হাজার টাকা মজুরি দেওয়ার কথা ছিল। যদিও সাধারণ জেলেদের মজুরি এর চেয়ে অনেক কম।
কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পতেঙ্গা থেকে টেকনাফ হয়ে নাফ নদী পর্যন্ত নৌপথটি পাচারকারীরা ব্যবহার করছে। মিয়ানমারে থাকা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এ রুটটি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কাজে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই রুটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নৌপুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ডিআইজি বিএম নুরুজ্জামান জানান, হাতিয়া থেকে চট্টগ্রাম হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত নৌরুটে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কোস্টগার্ডও পতেঙ্গা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাগর এলাকায় টহল বাড়িয়েছে। এ ঘটনায় আটক ১২ জনকে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।



