সৌন্দর্যের আড়ালে অবৈধ বাণিজ্য

সংগৃহীত ছবি
ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালি— সাদা বালুর সৈকত, নীল সমুদ্র আর সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য বিশ্ব জুড়ে পরিচিত। কিন্তু এই স্বর্গীয় দ্বীপের আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে এক ভয়ংকর অবৈধ বাণিজ্য, যার শিকার হচ্ছে সমুদ্রের অন্যতম প্রাচীন ও বিপন্ন প্রাণী— সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ। সম্প্রতি স্থানীয় পুলিশের এক অভিযানে সেই অন্ধকার জগতের আরেকটি চাঞ্চল্যকর অধ্যায় সামনে এসেছে। গত ১০ জুন বালির পেগামেতন উপকূলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২১টি জীবিত সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ উদ্ধার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। পুলিশের সন্দেহ ছিল, ওই এলাকায় গোপনে কচ্ছপ পাচার ও বিক্রির কার্যক্রম চলছে।
অভিযানে ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি শুধু ‘কেএস’ নামে পরিচিত। পুলিশের মতে, তিনি এই প্রাণীগুলো সংরক্ষণ করে পরে বিক্রির জন্য বিভিন্ন ক্রেতার কাছে সরবরাহ করতেন। বালি পুলিশের আইন প্রয়োগ বিভাগের প্রধান নানাং প্রি হাসমোজো জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে কেএসের ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ায় ১৯৯০ সাল থেকেই সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে আইনি সুরক্ষা পেয়ে আসছে। ২০১৮ সালে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় নতুন বিধিমালা জারি করে জলসীমায় পাওয়া ছয় প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের সুরক্ষা আরও স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এসব কচ্ছপের বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তবে আইন থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ এবং সংগঠিত অপরাধ চক্রের মাধ্যমে কচ্ছপ শিকার আজও বড় সমস্যা। ফলে বিশ্বের সাতটি সামুদ্রিক কচ্ছপ প্রজাতির মধ্যে ছয়টিই বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
২০২২ সালে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্ব জুড়ে ১১ লাখের বেশি সামুদ্রিক কচ্ছপ হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ ছিল প্রাণীটির মাংসের চাহিদা, তথাকথিত যৌনশক্তি বৃদ্ধিকারী উপাদান হিসেবে এর ব্যবহার এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যগত ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে এর চাহিদা। গবেষণায় আরও উঠে আসে, এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় শিকার ছিল সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ বা কেলোনিয়া মাইডাস। ৩০ বছরের ওই সময়ে নিহত সব সামুদ্রিক কচ্ছপের ৫৬ শতাংশই ছিল এই প্রজাতির।




