জ্যাক মার এই মূল মন্ত্রই বদলে দিতে পারে উদ্যোক্তাদের জীবন

আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা
জীবনের সব লড়াই শুধু শক্তিশালী মানুষই জেতেন তা কিন্তু নয়। অনেকসময়ই দেখা যায় আসল বিজয়ীরা কোনো বাড়তি সুবিধাই পাননি তাদের জীবনে।
আমাদের জীবনের পথচলা এক বিশাল নৌকাবাইচের মতো, যেখানে শক্তিশালী আর মজবুত নৌকার অধিকারীরা শুরুতেই এগিয়ে থাকেন অনেকটা।
আপনি হয়তো শুরু করেছেন খুব ছোট জায়গা থেকে। সীমিত সম্পদ, সীমিত অভিজ্ঞতা, সীমিত সমর্থন; অথচ বড় স্বপ্ন আপনার।
কিন্তু আসল শক্তি আসে সম্পদ বা ক্ষমতা থেকে নয়। আসল শক্তি আসে তীক্ষ্ণ মনোযোগ আর উদ্যোগতার বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা থেকে।
আজকের পৃথিবী দ্রুত সাফল্য আর বড় অর্জনগুলোকে বড় করে দেখে। বেশি প্রশংসা করে।
কিন্তু আধুনিক সময়ের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার ব্যক্তিগত জীবনের গল্প ভিন্ন কথা বলে। তার একটি চিরন্তন উপদেশ এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। কে সেই উপদেশ, চলুন জেনে নেয়া যাক।
১৯৬৪ সালে চীনের হাংঝৌ শহরে মা ইউন নামে জন্ম নেওয়া জ্যাক মা জীবনে অসংখ্য ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছেন।
তিনি দু’বার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেন। কেএফসি-সহ ৩০টিরও বেশি চাকরিতে আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হন।
জ্যাক মা নিজেও শুরু করেছিলেন একদম শূন্য থেকে। ১৯৯৯ সালে, মাত্র ১৮ জন বন্ধুর কাছ থেকে সর্বমোট ৬০,০০০ ডলার নিয়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই শুরু হয় তার সবচেয়ে সফল প্রজেক্ট আলিবাবা।
আজ সেই আলিবাবা একটি ২০০ বিলিয়ন ডলারের ই-কমার্স জায়ান্ট, যা বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষকে সেবা দিচ্ছে।
২০১৯ সালে তার তৈরি করা সেই ই-কমার্স প্রজেক্টের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে আসেন তিনি। বর্তমানে শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজে মন দিয়েছেন জ্যাক মা।
তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে, শুরুর লক্ষটা কেবল বড় হওয়া নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা আর অধ্যবসায়ই আসল লক্ষ হওয়া উচিত।
জ্যাক মার জীবনের গল্প বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাদের মূলধনও তার মতোই সীমিত।
যখন আপনার কাছে অর্থ, বড় দল বা প্রভাব কিছুই নেই, তখন ক্ষমতা দিয়ে প্রতিযোগিতা করার চেষ্টা না করাই উত্তম।
জ্যাক মার মতে, জীবনে এগোতে হবে নির্দিষ্ট একটি লক্ষ ধরে। যেমন একসাথে নয়টা খরগোশ ধরার চেষ্টা না করে একটি খরগোশের পেছনে ছোটাই হতে হবে আমাদের মূল পরিকল্পনা।
নিজের চিন্তাশক্তি, অন্তর্দৃষ্টি আর নিরলস প্রচেষ্টার ওপর ভরসা রাখতে হবে। নতুনভাবে ভাবা, দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে বুদ্ধি দিয়ে হারানো, এগুলোই তখন তোমার মূল অস্ত্র।
শক্তি বলতে আমরা যা বুঝি, যেমন অর্থ বা বড় টিম, শুরু করার পর সময়ের সাথে সাথে তা গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রথম লড়াইগুলো জিততে সাহায্য করে তোমার মস্তিষ্ক।
কেন জ্যাক মার দেওয়া এই উপদেশ এখনো প্রাসঙ্গিক?
বর্তমান বিশ্বে এই ধারণাটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যখন বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিমজ্জিত। যুক্তরাষ্ট্র- ইরানের মধ্যে চলমান দন্ধ অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
স্টার্টআপ ব্যবসাগুলো ফান্ডিং সংকট আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না।
অনেক ছোট ব্যবসা প্রথম বছরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মন্দাবস্থা বা বাজার পরিবর্তনের কারণে।
তবুও জ্যাক মার আলিবাবা, উবারের গ্যারেজ স্টার্টআপ, বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার গল্পগুলো দেখায় ফোকাসই হলো একটি ব্যবসার মূল চাবিকাঠি।
ফ্রিল্যান্সার, সলো-প্ল্যানার বা গিগ-ওয়ার্কারদের জন্য এই পদ্ধতি বিশেষভাবে কার্যকর, যারা আজকের পরিবর্তনশীল অর্থনীতি আর কর্মসংস্থানের বাস্তবতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
কীভাবে নিজের জীবনে প্রয়োগ করবে জ্যাক মার উপদেশ?
আমাদের ভাবতে হবে, এখন আমরা ঠিক কোন জায়গায় আছি। নিজেকে ঠিক কোথায় ছোট মনে হচ্ছে আমাদের? নতুন চাকরিতে? কোনো সাইড প্রজেক্টে? ঠিক কোথায়?
আমাদের সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করতে হবে। যেমন সোশ্যাল মিডিয়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যায় করা। কিংবা সবকিছুতেই 'হ্যাঁ' বলে দেওয়া।
এর পরবর্তী পদক্ষেপ হবে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা। যেমন, এই সপ্তাহেই আমার প্রজেক্টের ফেলে রাখা ডেমোটি শেষ করে ফেলব।
সব সমস্যারই সহজ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে আমাদের। যেমন শুরুতে পেইড বিজ্ঞাপনের বদলে ক্যানাভা'র মতো ফ্রি টুল ব্যবহার করা।
প্রতি সপ্তাহে নিজের অগ্রগতি যাচাই করতে হবে। দেখতে হবে এই ফোকাস আমাদের জন্য আসলেই কাজ করছে কি না।
একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিন সকালে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে দিনের প্রধান টাস্কটা নির্ধারণ করতে হবে।
তারপর সেটা নিয়ে কাজে লেগে পড়তে হবে।
চর্চার মাধ্যমে এইসব মানসিক শৃঙ্খলাই ধীরে ধীরে আমাদের আসল শক্তিতে পরিণত হবে।















