ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী ঘোষণা ইরানের

সংগৃহীত ছবি
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ তার সহকর্মী আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে আঘাত করার চেষ্টা করে ইউরোপীয়রা আসলে নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে এবং আমেরিকানদের অন্ধভাবে অনুসরণ করে আবারও তাদের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে দেশগুলোর সেনাবাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) জোটের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, ইরান তাদের সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করে বলে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার রবিবার জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার ইরানের নেতৃত্বের প্রতি তার অবস্থানে একটি প্রতীকী পরিবর্তন আনে, যখন ১৯৭৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ দমনের ঘটনার পর ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ তার সহকর্মী আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে আঘাত করার চেষ্টা করে ইউরোপীয়রা আসলে নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে এবং আমেরিকানদের অন্ধভাবে অনুসরণ করে আবারও তাদের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বক্তব্যের সময় আইনপ্রণেতারা অভিজাত এই বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পোশাক পরেছিলেন। কালিবাফ বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থাবিষয়ক আইনের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয়।’
তিনি আরো জানান, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সংসদীয় কমিশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সামরিক অ্যাটাশেদের বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।
স্পিকারের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আইনপ্রণেতারা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইউরোপ তোমাদের লজ্জা হওয়া উচিত’ বলে স্লোগান দেন।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী রবিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত ‘গঠনমূলক যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথকে’ আরো জটিল করেছে এবং ‘সংঘাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ জোরদার করেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর শিয়া ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা রক্ষার জন্য গঠিত এই বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইরানে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। তারা অর্থনীতির বড় অংশ ও সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।



