বিবিসির প্রতিবেদন
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প

ছবি: রয়টার্স
সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে। তবে মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘায়িত এই সংঘাতের ইতি টানতে এখন ভিন্নধর্মী উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প।
নতুন প্রস্তাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করবেন। ইঙ্গিত দেন, এর বিনিময়ে এসব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ পারাপারের বিষয়টি নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশ কয়েকটি কারণে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে অনাগ্রহী ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে জনপ্রিয় নয়। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং মার্কিন সেনা ও মিত্রদের ওপর ফের ইরানের হামলার ঝুঁকিও রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের করা চুক্তির চেয়ে ভালো বলে দাবি করা যায় এমন চুক্তিতে না পৌঁছে যুদ্ধ শেষ করাটাও তার কাছে পছন্দনীয় হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিড বলেছেন, ‘আমার মতে এই যুদ্ধের পরিণতি হলো— এটি শেষ হবে না। এটি এখন অমীমাংসিত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, আর এ ধরনের যুদ্ধ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।’
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও দেশটির নৌবন্দরে অবরোধের মধ্য দিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দুই দেশের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক। মার্কিন হামলার জবাবে অঞ্চল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও জোরদার করে ইরান। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
প্রায় এক মাস ধরে দফায় দফায় আলোচনা চললেও দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সেই একই সংকটের মুখোমুখি, যা সংঘাতের শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস এবং দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করার মতো কিছু লক্ষ্য অর্জন করেছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও এখনো হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র যদি এ অঞ্চলে সামরিক অভিযান নাটকীয়ভাবে না বাড়ায়, তবে তেহরানকে সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা তাদের পক্ষে কঠিন হবে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি-কে সামরিক প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে। এ ধরনের চেষ্টা আগেও করেছেন ট্রাম্প।
তবে মাত্র এক মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই।’
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান বদল আবারও প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তার সামনে এখনো সুস্পষ্ট কোনো পথ নেই।
সূত্র: বিবিসি।




