এল নিনোর নতুন হুমকি : আগামী বছরের শেষে তীব্র খাদ্যসংকটের সতর্কবার্তা

সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যত বাড়ছে, ততই অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে বৈশ্বিক আবহাওয়া। এরই মধ্যে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়া ব্যবস্থা এল নিনো। এর প্রভাবে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে আরও প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
বুধবার প্রকাশিত ডব্লিউএফপির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৪৫টি দেশে যে গুরুতর খাদ্যসংকট চলছে, এল নিনোর প্রভাবে তা আরও তীব্র হতে পারে। খরা, সংঘাত, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে আগে থেকেই বিপর্যস্ত কোটি কোটি মানুষের জীবনে এতে নতুন চাপ তৈরি হবে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়। অন্যদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরে কয়েক বছর পরপর গড়ে ওঠা একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া ব্যবস্থা, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধারা বদলে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের এল নিনো গত ৭০ বছরের অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে। যদিও একে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হচ্ছে না, তবু এর প্রভাব ব্যাপক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএফপির জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীলতা বিভাগের পরিচালক রিচার্ড চৌলার্টন জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় খাদ্যসংকটের ধাক্কা দেখা যেতে পারে ২০২৭-২৮ সালের খাদ্যস্বল্পতার মৌসুমে। কারণ একবার ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়াতে একাধিক মৌসুম সময় লাগে।
ডব্লিউএফপির খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক জ্যঁ মার্টিন বাউয়ার জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ভালো ফসলের ইতিবাচক প্রভাব এখনো কিছুটা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে খাদ্যের দামের ওপর এরই মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করলে খাদ্যপ্রাপ্তি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
চরম আবহাওয়ার ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও মানবিক সহায়তার জন্য অন্তত ৮ কোটি ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে ডব্লিউএফপি। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, অর্থসংকটের কারণে কিছু তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় বিশ্বে প্রায় ৬ থেকে ১০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছিলেন। এবার আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর তীব্রতা ও প্রভাব আগের তুলনায় আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাব যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে একযোগে বৃদ্ধি পায়, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সাল পৃথিবীর ইতিহাসের উষ্ণতম বছরগুলোর একটি হতে পারে। আর এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে বিশ্বের দরিদ্র ও কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীকে।
ভাষান্তর : রুবাইয়া জেসমিন







