মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলন মাস্কের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা জলে

ইলন মাস্ক। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ঢেলেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ইলন মাস্ক। খরচ করেছিলেন প্রায় ৪৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
তবে এমন বিপুল পরিমাণ অর্থও শেষ পর্যন্ত এনে দিতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত ফল। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। একের পর এক রিপাবলিকান প্রার্থীর পরাজয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মাস্কের রাজনৈতিক বিনিয়োগও।
বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মাস্কের আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেননি কেউই।
সবচেয়ে আলোচিত ফলগুলোর একটি এসেছে টেক্সাস থেকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ডেল টালারিকো যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন।
প্যাক্সটনের পক্ষে মাস্ক অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন বলে উঠে এসেছে বিবিসির বিশ্লেষণে।
এ ছাড়া অ্যারিজোনা, মিশিগান, উইসকনসিন ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছেন মাস্ক।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের পেছনে তিনি সোমবার পর্যন্ত অর্থ ব্যয় অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর পরাজয় যেন রসিকতার ছলেই মেনে নিয়েছিলেন মাস্ক।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী মহাকাশ লেজার কাজ করেনি’।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স নতুন করে আনুমানিক ১ হাজার কোটি ডলারের সরকারি কাজ পেয়েছে।
কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সরকারি ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে স্পেসএক্সের এমন একক অংশগ্রহণের তদন্তের দাবি তুলেছেন।
মাস্ক নির্বাচনের আগে এক্সে রাজনীতি নিয়ে ধারাবাহিক পোস্ট করলেও গতকাল বুধবারের পর থেকে নতুন কোনো পোস্ট করেননি। রাজনীতির পরিবর্তে এখন তিনি নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের তৈরি চ্যাটবট গ্রোকবটের প্রশংসায় পোস্ট করেছেন।
গত বছরের নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সে সময় মাস্ক এক দিনে কখনো কখনো শত শত রাজনৈতিক পোস্ট করতেন।
গত সপ্তাহ থেকে তার এক্স প্রোফাইলের শীর্ষে রাখা একটি পোস্টও সরিয়ে ফেলেছেন মাস্ক। ওই পোস্টে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের আরও বেশি আসনে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ ছিল।
তার উদ্বেগের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রে আরও অভিবাসী প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়া, ওয়াশিংটন ডিসি ও পুয়ের্তো রিকোকে আলাদা অঙ্গরাজ্য করা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর মতো বিষয়।
এ ছাড়া তার ২৪ কোটি ১০ লাখ অনুসারীকে ‘আজ লাল রঙে ভোট দিন’ আহ্বান জানিয়ে দেওয়া একটি পোস্টও বুধবার তার প্রোফাইল থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
মাস্কের নির্বাচনী ব্যয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের বিষয়ে মন্তব্য জানতে স্পেসএক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। তবে এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও মাস্কের রাজনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ ছিল টেক্সাসকে ঘিরে।
কারণ গেল কয়েক বছরে তিনি টেসলা ও স্পেসএক্সের করপোরেট সদর দপ্তর টেক্সাসে স্থানান্তর করেছেন।
অক্টোবরে এক্সে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘টালারিকোর (ডেমোক্র্যাট দলীয় রাজনীতিবিদ) মধ্যে বড় ধরনের কিছু ভুল রয়েছে।’
মাস্কের পোস্টের জবাবে টালারিকো সেসময় লিখেছিলেন, ‘যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একজন ট্রিলিয়নিয়ার টাকার ঢেলে নিজের পছন্দের কাউকে সিনেটর বানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধনকুবের মাস্কের মতো রিপাবলিকানদের সমর্থন করেননি।
লিংকডইনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ডেমোক্র্যাটদের বড় দাতা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রিড হফম্যান মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলকে প্রত্যাশার চেয়েও বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
এক্স ও লিংকডইনে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই নির্বাচন ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ‘প্রবল ঢেউ’ তৈরি করেছে।
হফম্যানের ভাষ্য, মাস্কের মতো ব্যক্তিরা একটি রাজনৈতিক পক্ষকে ক্ষমতায় রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। তবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।
সূত্র : বিবিসি



