যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ফিকে হয়ে আসছে ট্রাম্পের দলের বিজয়ের সম্ভাবনা

কংগ্রেসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সপ্তাহে তার চূড়ান্ত প্রচারভিযান শুরু করেছেন।
নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিক্যান পার্টির বিজয়ের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসছে। ৩ নভেম্বর নির্বাচন । হাতে সময় ২ মাসেরও কম। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম উর্ধ্বগতি। হাফিয়ে উঠছেন আমেরিকানা। অধিকাংশ জরিপেই এ জন্য দায়ি করছেন ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকেই। কংগ্রেসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সপ্তাহে তার চূড়ান্ত প্রচারভিযান শুরু করেছেন। তিনি দাবি করছেন যে, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্র পণ্যের দাম "অনেক অনেক কমিয়ে" এনেছে। এই নির্বাচনে জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার অনুদান দেবার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। যদিও আমেরিকান রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘোষণা অনৈতিক। তা’ছাড়া এতে লাগবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। কংগ্রেসে ঐকমত্য ছাড়া এ ধরনের অনুদান সম্ভাব নয়। এটি কি আসলে নির্বাচনী ট্রাম্পের স্ট্যান্ডবাজি?
আমেরিকান অনেক পরিবার ও ব্যবসায়ির কাছে অর্থনীতিকে অনেক বেশি অস্থিতিশীল বলে মনে হয়েছে। জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়া, গৃহঋণের খরচ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি অস্বস্তিকর মাত্রায় পৌঁছানোর ফলে দেশ সঠিক পথে আছে বলে ট্রাম্পের বারবার দেওয়া আশ্বাসের প্রতি জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা শুরু হয়েছে।এতে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ওয়াশিংটন থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রম্নতি দিয়েও দীর্ঘকাল ধরে উপেক্ষিত ভোটারদের রোষানলের মুখে পড়তে পারেন তিনি। নভেম্বরের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে পণ্যের দাম ততই বাড়ছে। এর পেছনে মূলত রয়েছে দুই বছর ধরে চলা কঠোর বাণিজ্য—সংঘাত এবং ইরানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ।
শুক্রবার প্রকাশিত 'কনজিউমার প্রাইজ ইনডেক্স' (ভোক্তা মূল্য সূচক) এর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এর ফলাফল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৪ শতাংশ। এর ফলে আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।
একই দিনে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের একটি জরিপে দেখা গেছে , এ মাসে ভোক্তাদের আস্থার সূচক বা মনোভাবের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আমেরিকানরা নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে অর্থনীতি ধীরগতির হয়ে পড়ছে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে থাকবে।
এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই ভোটারদের কাছে এটি তুলে ধরার জন্য ট্রাম্প নতুন করে প্রচার শুরু করেছেন। বলছেন তিনি অর্থনীতির ক্ষতি করেননি, বরং সহায়তা করেছেন। ডালাসে নিজের দলের মধ্যবর্তীকালীন সম্মেলনে দুদিন ধরে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট আমেরিকানদের বোঝানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন যে, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস) ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তবে তিনি আমেরিকান নাগরিকদের ৫ হাজার ডলারের চেক দেবেন। যদিও অতীতে এ ধরনের ২ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
শুক্রবার মুদ্রাস্ফীতির নতুন তথ্যের ওপর এক বিশ্লেষণে 'নেশনওয়াইড'—এর আর্থিক বাজার বিষয়ক অর্থনীতিবিদ ওরেন ক্লাচকিন লিখেছেন, "অর্থনীতি ভালো করছে ঠিকই, কিন্তু তা ভোক্তাদের মনোভাবকে চাঙ্গা করতে পারছে না। বরং তারা মূলত পণ্যের দাম ও সুদের হার বৃদ্ধি এবং এর ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টিতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।"
জুলাই মাসের পর এই প্রথম তেলের দাম উচ্চতায় পৌঁছাল। 'এএএ' এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নাগাদ সারা দেশে জ্বালানি তেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা এক বছর আগের তুলনায় এক ডলারেরও বেশি। তবে ডিজেলের দামের পরিস্থিতি ছিল আরও খারাপ; এর দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়ে। যা এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
সিনেটে রিপাবলিক্যানের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি (২ জন স্বতন্ত্রের সর্মথন সহ)। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিজেদের আসন রক্ষা সহ সিনেটে ৪টি ও হাউজে ৬টি আসনে রিপাবলিক্যান প্রার্থীদের পরাজিত করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে মেজোরিটি দলে পরিণত হতে পারবে। আর টেনে ধরতে পারবে অসীম ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। এদিক থেকে ৩ নভেম্বর আমেরিকানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।



