ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন গণমাধ্যমগুলো ‘ভুয়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ফাইল ছবি
নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থক ফক্স নিউজ ছাড়া অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যমকে সরাসরি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। এবার তার নিশানায় সিএনএনসহ প্রভাবশালী একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
স্থানীয় সময় সোমবার সামাজিকমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে সিএনএন এবং অন্য গণমাধ্যমগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার সংবাদ প্রচারের জন্য এ কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন তিনি।
গত বছর ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের একদম শেষ রাতে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করে ওয়াশিংটন। এ ঘটনার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান হারিয়েছে তার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা।
অথচ, ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতার তেমন কোনো বিশেষ ক্ষতি হয়নি বলে একাধিক সংবাদ প্রচার করেছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।
এ বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার ছিল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করার সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত হামলা। কারণ, এতে মাটির গভীর ঢুকে যাওয়া ইউরেনিয়াম খুঁড়ে বের করা ইরানের জন্য দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া।’
সিএনএনকে আক্রমণ করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ভুয়া খবর প্রচার করা সিএনএন এবং অন্য দুর্নীতিগ্রস্ত মিডিয়াগুলো আমাদের মহান বিমানবাহিনীকে প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ। সবসময় তাদের অপমান ও ছোট করার চেষ্টা করে মিডিয়াগুলো—অপদার্থ!!!’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘অনেক বড়’ ব্যবধানে ‘জিতছেন’ বলে মন্তব্য করার কয়েক ঘণ্টা পরেই এসব লিখলেন ট্রাম্প।’
তার ভাষ্য, ‘নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ওয়াশিংটন পোস্ট এমনভাবে সংবাদ করে যেন এই যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এতে শত্রুরা বিভ্রান্ত হয়, কারণ মিডিয়ার এই সংবাদগুলো দেখে তারাও।’
তিনি দাবি করেন, ‘আমেরিকাবিরোধী ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো চাইছে ইরান জিতুক, কিন্তু তা হতে যাচ্ছে না, কারণ দায়িত্বে আছি আমি!’
বেশ কয়েক বছর ধরেই মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে (যেমন: সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস) জনগণের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনামূলক প্রতিবেদনগুলোকে বলে চলেছেন মিথ্যা তথ্য।
ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে সমর্থন না করে শুধু খুঁজে বেড়ায় ভুল।
তার চাওয়া, সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত তার কাজের প্রশংসা করা, তাহলেই তারা ফিরে পাবে হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা।
এছাড়া বিভিন্ন সময় তার বিরোধী সংবাদ প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বা তদন্ত করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, যেসব মিডিয়া তার বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া উচিত।
সাংবাদিকদের সরাসরি আক্রমণ করা এবং তাদের জন্য নির্ধারিত পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করতে দেখা গেছে তাকে।
ট্রাম্পের এই ক্রমাগত আক্রমণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে "উদ্বেগজনক অবনতি" ঘটেছে বলে সতর্ক করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।

