যুদ্ধ নয়, শান্তিও নয়—নতুন বাস্তবতায় মার্কিন সেনারা

ছবি: রয়টার্স
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দেওয়ার ১৪ সপ্তাহ পেরিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা এখন এক উত্তেজনাপূর্ণ নতুন বাস্তবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন—যা পুরোপুরি যুদ্ধও নয়, আবার শান্তিও নয়।
এপ্রিল মাসে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও সংঘাত এখন এক বিপজ্জনক অচলাবস্থায় আটকে আছে। মার্কিন নৌবাহিনী এখনো ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে, ইরানও হরমুজ প্রণালির আশপাশে নৌপথে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। কয়েক দিন পরপরই ঘটছে সামরিক উত্তেজনা ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সব সময় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছেন। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কারণ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে এই নাজুক যুদ্ধবিরতি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বললেন, ‘সব সময় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্ক অবস্থায় থাকা, মুহূর্তের নোটিশে অভিযানে প্রস্তুত থাকা—এটি অত্যন্ত চাপপূর্ণ ও কঠিন সামরিক দায়িত্ব।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভোটেল বর্তমান পরিস্থিতিকে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
সেনারা এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মজুত করছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা দলগুলো বড় ধরনের যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরানের ভেতরের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করছে।
যুদ্ধের চাপ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, অনুভূত হচ্ছে দূরবর্তী স্থানেও।
মেরিল্যান্ডের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত সেনারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব হামলা তাদের জীবন বদলে দিয়েছে চিরতরে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন আর্মি রিজার্ভের সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস কোরি হিকস। যুদ্ধের শুরুর দিকে ভয়াবহ এক ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে যান তিনি।
হিকস বললেন, ‘এটা যেন দ্রুতগতিতে আসা ছোট একটি প্রপেলার বিমান মনে হচ্ছিল। এরপর সেটি ভবনে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়।’
এই বিস্ফোরণে তার চোয়াল ভেঙে যায়, একটি ধমনি ছিঁড়ে যায় এবং গুরুতর মস্তিষ্কে আঘাত পান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে প্রায় ৪০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ১৩ জন সেনাসদস্য।
দেশে থাকা সেনাদের পরিবারগুলোও ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘায়িত মোতায়েন পরিস্থিতি তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
আর্মি রিজার্ভে কর্মরত একজনের মা ইয়াদিরা ডেসেইন্ট বললেন, ‘ঠিক কী ঘটছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত না জানা সত্যিই খুব ভয়ের।’
তিনি জানান, ইরানের নতুন হামলার খবর এলেই তিনি ছেলেকে প্রতিদিন বার্তা পাঠান।
তিনি বললেন, ‘আমি প্রায় প্রতিদিনই লিখি—“সুপ্রভাত বাবা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।” মাঝে মাঝে জবাবে পাই—“আমিও তোমাকে ভালোবাসি মা” বা “তোমাকে মিস করছি।”’
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চললেও উত্তেজনা এখনো তীব্র রয়ে গেছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও বড় আকারের বোমা হামলা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে ইরান।
অঞ্চলজুড়ে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের জন্য যুদ্ধ হয়তো কিছুটা ধীর হয়েছে, কিন্তু একটুও কমেনি হুমকি।




