কংগ্রেস জিতেও ট্রাম্পকে কতটা রুখতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা?
- তদন্ত, অভিশংসন থেকে বিচারপতি নিয়োগে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা, তবু প্রেসিডেন্টের হাতে ভেটোর অস্ত্র
- নতুন সংঘাতের মুখে ওয়াশিংটন

জয়ের পর অস্টিনে বক্তব্য দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মার্কিন সিনেট প্রার্থী ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি জেমস টালারিকো।
ওয়াশিংটনে ক্ষমতার চাবি বদলেছে হাত। কিন্তু দরজার ওপারে এখনও দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষই জিতেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়ার শক্তি পেয়েছে বিরোধীরা। তবু হোয়াইট হাউসের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কত দূর এগোতে পারবেন তাঁরা? বিজয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই উঠেছে সেই প্রশ্ন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের ভোটে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। নতুন কংগ্রেস কাজ শুরু করবে আগামী জানুয়ারিতে। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজের ঘোষণা, ‘আজ শুরু হলো আমেরিকার ঘুরে দাঁড়ানো।’ প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে তাঁর।
নির্বাচনে ইরান যুদ্ধ, চড়া জ্বালানিমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্ষমতায় এসে চিকিৎসা, খাবার ও জ্বালানির খরচ কমানো এবং প্রশাসনের অনিয়ম তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের দাবি, রিপাবলিকানদের আমলে দরিদ্রদের চিকিৎসাসহায়তায় যে কাটছাঁট হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিমায় করছাড়ও বাড়াতে চান তাঁরা। কিন্তু শুধু ট্রাম্পবিরোধিতার ওপর নির্ভর করে মানুষের আস্থা ধরে রাখা কঠিন। অক্টোবরের এক জরিপে কংগ্রেসের কাজে সন্তুষ্ট ছিলেন মাত্র ১৪ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটবে তদন্তের ক্ষমতায়। কংগ্রেসের কমিটিগুলো সরকারি নথি তলব করতে, কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দিতে ডাকতে এবং শুনানি চালাতে পারবে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়ার সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা, ‘আইনজীবী ঠিক করে রাখুন।’ ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ, সরকারি দুর্নীতির অভিযোগ, অভিবাসন অভিযানে কথিত নির্যাতন এবং জেফরি এপস্টেইনসংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে চান তাঁরা।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ও বিচারপতি নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী আটকে দিতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। সুপ্রিম কোর্টে শূন্যপদ তৈরি হলেও প্রেসিডেন্টকে তাঁদের সঙ্গে দরকষাকষি করতে হতে পারে।
ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের সম্ভাবনাও আলোচনায়। প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অভিযোগ গৃহীত হতে পারে। কিন্তু তাঁকে পদচ্যুত করতে সিনেটের ১০০ সদস্যের অন্তত ৬৭ জনের সমর্থন চাই। সেই সংখ্যা ডেমোক্র্যাটদের নেই। ফলে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা আর প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। প্রথম মেয়াদে ২০১৯ ও ২০২১ সালে দুবার অভিশংসিত হয়েও সিনেটে খালাস পেয়েছিলেন ট্রাম্প।
আইন প্রণয়নেও রয়েছে দেয়াল। সিনেটে অধিকাংশ বিলের বিতর্ক শেষ করতে সাধারণত ৬০ ভোট লাগে। দুই কক্ষে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন। সেই বাধা কাটাতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ট্রাম্প একদিকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন, অন্যদিকে ‘ভেটো’ লেখা টুপির ছবিও প্রকাশ করেছেন।
স্বাস্থ্যসেবায় কাটছাঁট ফেরানো, করছাড় বাড়ানো, ইরান যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনায় দলটির ভেতরেও মতভেদ আছে। নবনির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদ ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা কমাতে চান। এ নিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে মতভেদ রয়েছে। ইরান যুদ্ধ থামাতে কংগ্রেস কতটা বাধ্য করতে পারবে, সেটিও বিতর্কিত আইনি প্রশ্ন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বিবিসিকে সতর্ক করেছেন, নিজেদের মধ্যে বেশি লড়লে সুযোগ হাতছাড়া হবে।
২০১৮ সালেও প্রতিনিধি পরিষদ জিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছিল ডেমোক্র্যাটরা। এবার দুই কক্ষই তাঁদের। তবে নির্বাচনে জয়ের চেয়ে কঠিন হতে পারে প্রতিশ্রুতি পূরণ। প্রশ্ন তাই, কংগ্রেসের ক্ষমতা কি ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণ করবে, নাকি ভেটো আর দলীয় বিভাজনে আটকে যাবে পরিবর্তনের পথ?



