মার্কিন কংগ্রেসে ৭ জন মুসলিম রাজনীতিকের বিজয়

মার্কিন কংগ্রেসে এবার ৭ জন মুসলিম রাজনীতিক ডেমোক্র্যাট দলীয় মনোনয়নে জয়ী হলেন। এর মধ্যে একজন সিনেটর ও ৬ জন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে তারা নির্বাচিত হন। কিন্তু আমেরিকায় ধর্মীয় মুসলিম পরিচয় থাকার কারনে রাজনীতিতে তীব্র বাধার সন্মুখিন হতে হয়। এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলমানরা এগিয়ে চলেছেন ও সফলতা অর্জন করছেন।। উল্লেখ্য কংগ্রেসে বিজয়ী ৭ জনই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নে বিজয়ী হয়েছেন।
ইলহান ওমর
মুসলিম ইলহান ওমর কংগ্রেসে মিনেসোটার ডিস্ট্রিক্ট ৫ থেকে সহজেই ৫ম মেয়াদে জয়ী হলেন । সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই কংগ্রেস সদস্য নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রিপাবলিকান প্রার্থী ও ৩০ বছরের অভিজ্ঞ স্টেট ট্রুপার জন নাগেলকে পরাজিত করেছেন। শতকরা ৭৭ ভাগ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি রিপাবলিক্যান জন নাগেল পেয়েছেন মাত্র ১৬ ভাগ ভোট।
অ্যাডাম হিশাম হামাউই
অ্যাডাম হিশাম হামাউই নিউজার্সির ডিস্ট্রিক্ট ১২ থেকে কংগ্রেসম্যান হিসেবে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হলেন। তিনি পেয়েছেন শতকরা ৭০ ভাগ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রিপাবলিক্যান জর্জ মিলি পেয়েছেন ২৮ ভাগ। তিনি মিশরে জন্মগ্রহনকারি মুসলিম ধর্মাম্বলি একজন আমেরিকান প্লাস্টিক সার্জন এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক চিকিৎসক। নিউ জার্সির প্রিন্সটনে নিজের চিকিৎসা কেন্দ্রে তিনি কসমেটিক এবং রিকনস্ট্রাক্টিভ (পুনর্গঠনমূলক) উভয় ধরনের অস্ত্রোপাচারে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের জন্য ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়নে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতে কংগ্রেসে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের সময় গাজায় কর্মরত আমেরিকান চিকিৎসকদের একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হিসেবে হামাউই জাতীয় পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেন। গাজা যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েল রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দখল করে তা বন্ধ করে দিলে তিনি সেখানে আটকা পড়েন ।মার্কিন সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে তাকে গাজা থেকে বের হয়ে আসতে সহায়তা করেন। হামাউই সেই তিনজন চিকিৎসকের একজন যারা স্বেচ্ছায় গাজায় গিয়ে মানব সেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
রাশিদা হারবি তালিব
রাশিদা হারবি তালিব একজন মার্কিন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।মুসলিম ধর্মাম্বলি রাশিদা ২০১৯ সাল থেকে মিশিগান থেকে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য রাশিদা তালিবই প্রথম ফিলিস্তিনি আমেরিকান নারী যিনি কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি (ইলহান ওমরের সাথে) কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন। এবারের নির্বাচনে রাশিদা ৭৬ ভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জন হুপার পেয়েছেন শতকরা ২১ ভাগ ভোট।
এন্ড্রু কারসন
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট ৭ থেকে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী হিসেবে পুর্নবার নির্বাচিত হয়েছেন এন্ড্রু কারসন। তিনি শতকরা ৭৭ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রিপাবলিক্যান প্যাট্রিক ম্যাকুলি পেয়েছেন মাত্র ২০ ভাগ ভোট।
লতিফা সিমন
লতিফা সিমন ক্যালিফোরনিয়ার ডিস্ট্রিক্ট ১২ থেকে কংগ্রেসওম্যান হিসেবে পুর্নবার নির্বাচিত হয়েছেন। শতকরা ৮০ ভাগ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রিপাবলিক্যান জামি জয়েস পেয়েছেন ২০ ভাগ ভোট। লতিফা প্রথমমার নির্বাচিত হ ন২০১৬ সালে। সেই থেকে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।
আয়েশা ওয়াহাব
আয়েশা ওয়াহাব একজন আমেরিকান রাজনীতিবিদ। ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট ১৪ থেকে পূর্ন মেয়াদে কংগ্রেসওম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে নির্বাচিত প্রথম আফগান আমেরিকানদের মধ্যে অন্যতম। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শতকরা ৫৬ ভাগ ভোট পেয়ে তিনি কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন।
সিনেটর আব্দুল এল সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো সিনেট নির্বাচনে একজন মুসলিম ও ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী আব্দুল এল সায়েদ ইতিহাস গড়লেন। দুনিয়াব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেগের প্রার্থী সায়েদই শেষ হাসিটা হাসলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের মিশিগান আসন থেকে তিনি নির্বাচন করেন। ধর্মীয়ভাবে শুধুমাত্র মুসলমান হবার কারনে নানা ধরনের প্রতিবন্ধ¦কতা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন তিনি। তিনি প্রকাশ্যে প্যালেস্টাইন তথা গাজায় ইসরাইলী আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরাইলকে সাহায্য প্রদান বন্ধ করা। সে অর্থ আমেরিকানদের জন্য খরচ করলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
সিনেট পদপ্রার্থী আব্দুল এল সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্স। শতকরা ৫৩ ভাগ ভোট পেয়ে আব্দুল নির্বাচিত হয়েছেন।। মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৫ ভাগ ভোট।
আব্দুল এল—সায়েদের বাবা—মা মিসরের অভিবাসী। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশিগানের রচেস্টার হিলে। এল সায়েদ পেশায় একজন ডাক্তার। এর আগে তিনি ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।



