মদ ছাড়লে মস্তিষ্কে কী ঘটে?
- ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ আছে, বলছে গবেষণা

মদ্যপান বন্ধ করলে শুধু শরীর নয়, ধীরেধীরে বদলাতে শুরু করে মস্তিষ্কও। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে মস্তিষ্কের ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে, তার সবটাই যে স্থায়ী- এমন নয়। বরং মদ কমিয়ে দেওয়া বা পুরোপুরি ছেড়ে দিলে মস্তিষ্কের কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে। তবে গবেষণার তথ্য বলছে, অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলকেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না।
৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে মস্তিষ্কের ওপর অ্যালকোহলের প্রভাব এবং মদ্যপান বন্ধ করার পর সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো তুলে ধরেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। অ্যালকোহল বিশ্বের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত মাদক। এর নেশাজনিত যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়, তার পেছনে শুধু অ্যালকোহলের রাসায়নিক প্রভাব নয়, সামাজিক পরিবেশও ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের ন্যাশনাল সার্ভে অন ড্রাগ ইউজ অ্যান্ড হেলথ বলছে, ১২ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অ্যালকোহল পান করেছেন।
কিন্তু নিয়মিত মদ্যপানের প্রভাব মস্তিষ্কে গভীর হতে পারে। অ্যালকোহল মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘদিনের অভ্যাসের পর কেউ হঠাৎ মদ ছেড়ে দিলে মস্তিষ্ককে আবার নতুন ভারসাম্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তাই মদ ছাড়ার পর পরিবর্তন সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না।
তবে এখানেই রয়েছে আশার দিক। অ্যালকোহল কমানো বা বন্ধ করার ফলে মস্তিষ্কের কিছু পরিবর্তন সময়ের সঙ্গে আংশিকভাবে ফিরে আসতে পারে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন মদ্যপানের কারণে মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া সব পরিবর্তন অপরিবর্তনীয় নয়। শরীর থেকে অ্যালকোহলের প্রভাব কমার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কও কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সুযোগ পায়।
অ্যালকোহল নিয়ে প্রচলিত ধারণার বাইরে এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও বিজ্ঞানীরা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে তুলনামূলক কম মাত্রায় মদ্যপান করলেও তা সম্পূর্ণ নিরাপদ এমন নিশ্চয়তা নেই।
তাই মদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু লিভার বা শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মস্তিষ্কের সুস্থতাও। দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিই মদ কমানো বা ছেড়ে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
ভাষান্তর : রুবাইয়া জেসমিন




