ইরান যুদ্ধ নিয়ে জন কেরি
ওবামা, বুশ, বাইডেনকে রাজি না করাতে পারলেও ট্রাম্পকে পেরেছেন নেতানিয়াহু

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ফাইল ছবি
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আপাতত সামতিক বিরতি চলছে যুদ্ধে। স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য ওয়াশিংটন আগ্রহী হলেও আলোচনায় আসতে নারাজ তেহরান। অনেকেই বলছেন, যুদ্ধে ভাল অবস্থানে রয়েছে ইরান।
এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের জন্য ট্রাম্পের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তিনি দাবি করেছেন, আগের ৩ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের কাছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তারা এ প্রস্তাব না করলেই, সম্মতি দিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন কেরি। কেরির ভাষ্য, ‘ওবামা না বলেছিলেন। বুশ না বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও না বলেছিলেন। আমি সেইসব আলোচনার অংশ ছিলাম।’
সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ‘পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে রাজি হননি। কারণ, তাঁরা ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ের সব পথ যাচাই করে দেখেননি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং ইরাক যুদ্ধ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া গেছে—ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।
কেরির ভাষায়, মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের সন্তানদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে বলা ঠিক নয়।
এদিকে সংবাদমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর জন্য হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুম’-এ অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নেতানিয়াহু যুক্তি তুলে ধরেন যে, ইরানে ‘রেজিম পরিবর্তনের’ সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের মাধ্যমেই তা সম্ভব। এতে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়ে যৌথ সামরিক অভিযানের জন্য সম্মতি দেন বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে কেরি এসব দাবিকে ‘পূর্বাভাস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নেতানিয়াহুর ধারণা ছিল—জনগণ রাস্তায় নেমে সরকার পরিবর্তন করবে; বাস্তবে তা ঘটেনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানকে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য ও উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

