এবার ভারত ও তুরস্কের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: রয়টার্স
ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরান সরকারকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য, ইরানের তেল বিক্রির পথ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে অর্থায়নের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের চণ্ডীগড়ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রীত প্রীতি শাহিদ এবং তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আরও দুই ভারতীয় নাগরিক ও নয়টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলোকে ভুয়া পতাকা ও সামুদ্রিক সনদ দিয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হয়ে তেল পরিবহনকারী জাহাজও রয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, শর্মা ও শাহিদ গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জাহাজের পতাকা ও সনদ দেওয়ার ভুয়া ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। এ জন্য তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ভারতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেছেন।
এ ছাড়া ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কের ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কয়েকটি বিমান সংস্থাকে তুরস্কে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়েছে। এসব সংস্থার মধ্যে ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনস রয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরান সরকারকে স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘তারা কোথায় আছে, আমরা জানি। ইরান সরকারকে যারা সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।’
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) সম্ভাব্য ভুয়া পতাকাবাহী জাহাজের সঙ্গে ব্যবসা করার ঝুঁকি নিয়েও বিভিন্ন খাতকে সতর্ক করেছে।
গত ১৪ জুলাই ইরানের বন্দরগুলোতে আবার অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়ল।
সূত্র : আলজাজিরা




