Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
বিনামূল্যে চিকিৎসার ছয় দশক
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন নতুন রণতরি ও সেনা মধ্যপ্রাচ্যে, আবার কি যুদ্ধের দামামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩৩
মার্কিন নতুন রণতরি ও সেনা মধ্যপ্রাচ্যে, আবার কি যুদ্ধের দামামা

আরব সাগরে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন রণতরির ডেকে একটি যুদ্ধবিমানে কাজ করছেন মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা। ফাইল ছবি / রয়

ইরান যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের কাছাকাছি জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সময়ে আরও কয়েক হাজার মার্কিন সেনাও এই অঞ্চলে যাচ্ছে।

সামরিক শক্তি বাড়ানোর এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই একদিকে আবার সংঘাতের কথা বলছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক পথও খোলা রাখছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বেশি সামরিক শক্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বরং সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ফলে যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুই পথেই এখন একই সঙ্গে এগোনোর চিন্তা করছে ওয়াশিংটন।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সর্বশেষ সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না?

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে আরও বিমানবাহী রণতরী ও সেনা

মার্কিন এক কর্মকর্তা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন বিমানবাহী রণতরী বহর রবিবার সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। এর এক দিন পর রওনা হয়েছে মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট বা এমইইউ। এতে ২ হাজারের বেশি মেরিন (নৌ) সেনা রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই রণতরী বহর ও নৌ মোতায়েনে মোট ৯ হাজার থেকে ১০ হাজারের মতো অতিরিক্ত মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে বিমানবাহী রণতরী বহর ও অন্যান্য জাহাজে থাকা নাবিক এবং মেরিন সেনারাও রয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুটি উভচর অবতরণকারী নৌবহর অবস্থান করবে।

অর্থাৎ ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শুধু আকাশ ও নৌ শক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্থল ও উভচর অভিযানের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

আলজাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন মোতায়েনে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে নতুন বাহিনী যুক্ত হবে।
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। ফাইল ছবি : রয়টার্সপেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, কূটনীতি যেদিকেই যাক, ট্রাম্পের জন্য সামরিক বিকল্প ‘টেবিলে’ রাখাই এই মোতায়েনের অন্যতম লক্ষ্য।

এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও বর্তমানে মোতায়েন করা সামরিক সম্পদ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা পেন্টাগনের নেই।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ট্রাম্প নির্দেশ দিলে মার্কিন বাহিনী ‘প্রস্তুত’ রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কয়েক দশকের পুরোনো। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যে বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় সামরিক মোতায়েন হয়েছিল ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে। তখন লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছিল। একপর্যায়ে সেখানে প্রায় ১৫ হাজার মেরিন ও সেনা ছিল।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার সেনা ছিল। বড় স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি ছোট ছোট সামরিক অবস্থানেও তারা ছিল।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ইরান ঘিরে এই উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। প্রথম দিকে তিনি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ যুদ্ধজাহাজ আরব সাগরের দিকে পাঠিয়েছিলেন।

যুদ্ধ শুরুর আগেই বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছিল।

ওপেন সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও সামরিক উড়োজাহাজ পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১২০টির বেশি উড়োজাহাজ এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান শক্তি বাড়ানোর এটিই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোতায়েন করা উড়োজাহাজের মধ্যে ছিল ই-৩ সেন্ট্রি আর্লি ওয়ার্নিং বিমান, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত এফ-২২। এর সঙ্গে এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও ছিল।

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্য বলছে, এসব উড়োজাহাজের অনেকগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ঘাঁটি থেকে এসেছে। এগুলোর সহায়তায় ছিল পণ্যবাহী উড়োজাহাজ ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রস্তুতি নিয়মিত সেনা বা বিমান ঘুরিয়ে দেওয়ার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

মার্চে পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তখন তিনটি পৃথক সামরিক ইউনিট পাঠানো হয়।
সৌদিতে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পেছনে একজন সেনাকে দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি / রয়টার্সপ্রথমটি ছিল ট্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ। এর নেতৃত্বে ছিল আমেরিকা শ্রেণির উভচর হামলাজাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলি। এর সঙ্গে ছিল ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট।

দ্বিতীয়টি ছিল বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ। এর মূল জাহাজ ছিল ওয়াস্প শ্রেণির ইউএসএস বক্সার। এর সঙ্গে ছিল ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট। এই ইউনিটটির ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়।

এই দুটি মেরিন ইউনিট মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৪ হাজার ৫০০ মেরিন ও নাবিক যুক্ত হয়েছে।

তৃতীয় ইউনিটটি ছিল ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সেনা। উত্তর ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে তাদের পাঠানো হয়। এই ডিভিশনের মূল সক্ষমতা হলো প্যারাসুটের মাধ্যমে দ্রুত সেনা নামানো।

সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নতুন মোতায়েন কি যুদ্ধ আরও বাড়ার সংকেত

নতুন করে সেনা পাঠানোর অর্থ যুদ্ধ আরও বড় হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর মধ্যেই ট্রাম্পের কিছু বক্তব্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ আরও বাড়ানো ‘সম্ভব’।

তাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তা বলতে পারবেন না। কারণ কোথায় বোমা হামলা চালানো হবে—এ ধরনের তথ্য তিনি প্রকাশ করতে চান না।

এ কারণে নতুন সামরিক মোতায়েনকে শুধু প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না অনেক বিশ্লেষক। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দর-কষাকষির কৌশলের অংশ হিসেবেও সামরিক শক্তি বাড়ানো হতে পারে।

অর্থাৎ ওয়াশিংটন একই সঙ্গে দুটি বার্তা দিতে চাইছে। একদিকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

গত সপ্তাহে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এর সঙ্গে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।

ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, হরমুজ প্রণালি খোলার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিষয়ও আলোচনায় আসুক।

ট্রাম্প টাইমকে বলেছেন, ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ এতে এমন কিছু বিষয় ছিল, যেগুলো তিনি এক বছর আগেও অনুমোদন করতেন না এবং এখনো করেন না।
হরমুজে একটি মালবাহী ট্যাংকার ভাসছে। ফাইল ছবি / রয়টার্সএর সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এই সপ্তাহে ইরানের রেল ও গাড়ি শিল্পের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, তেহরানের হাতে থাকা অবশিষ্ট আয়ের উৎসও কমিয়ে দেওয়াই এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

এর আগে গত মাসে ইরানের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা অন্য দেশগুলোর ওপরও বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, কিন্তু অগ্রগতি নেই

সামরিক শক্তি বাড়লেও ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গত মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের আলোচনা হয়। সেখানে সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা।

ইরান কাতারের মাধ্যমে সাত দিনের একটি রোডম্যাপ দেয়। এতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর কথা বলা হয়।

বিনিময়ে ইরান চেয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং লেবানন ও ইয়েমেনকে অন্তর্ভুক্ত করে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি।

ট্রাম্প এই পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এনবিসিকে বলেছেন, ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে আব্বাস আরাগচি। ছবি : রয়টার্সতার ভাষ্য, এসব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নয়, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাতটি প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেছেন।

এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসিকে বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ আবার শুরু করার জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।

তবে পরে এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ বিক্রি করতে নিউ ইয়র্কে আসিনি। আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এসেছি।’

অর্থাৎ ইরানও একদিকে সামরিক প্রস্তুতির কথা বলছে, অন্যদিকে আলোচনার দরজাও খোলা রাখছে।

সামনে কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে দুটি দিক স্পষ্ট।

প্রথমত, ইরানকে সামরিকভাবে চাপে রাখা। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানো।

এর পাশাপাশি আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

নতুন করে তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি উভচর নৌবহর ইরানের কাছাকাছি অবস্থান নিলে ট্রাম্পের হাতে সামরিক বিকল্প আরও বাড়বে। তবে একই সঙ্গে এত বড় বাহিনী মোতায়েনের ফলে সংঘাত আরও বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

বিশেষ করে ট্রাম্প নিজেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ফলে সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা এখন পাশাপাশি চলছে।

অন্যদিকে ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব দেখাচ্ছে, তেহরান হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা অর্থ এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিকে একই আলোচনার কাঠামোর মধ্যে আনতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র আবার পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে রাখছে।

ফলে দুই পক্ষের মধ্যে মূল বিরোধ শুধু যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে নয়। যুদ্ধের পর কোন শর্তে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালির মতো বিষয় কীভাবে সমাধান হবে—সেসব নিয়েও বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েকজন ইরানি নারী। ফাইল ছবি / রয়টার্সবৃহস্পতিবার টেক্সাসের ডেন্টনে পিটারবিল্ট মোটরসের একটি কারখানায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান সংঘাত ‘খুব শিগগির’ শেষ হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ইরানের জন্য গুরুতর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানকে কোনো চুক্তি করলে সেটি মানবে কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন।

এখন তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—সামরিক চাপ কি ইরানকে আলোচনায় আরও নমনীয় করবে, নাকি নতুন করে বড় সংঘাতের পথ তৈরি করবে। আপাতত ওয়াশিংটন দুই সম্ভাবনাই খোলা রাখছে।

সূত্র : আলজাজিরা 

ইরান-আমেরিকা বৈঠকমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধইরান যুদ্ধ
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই

    বিডিনিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই

    ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল

    ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল

    অভিযোগ নেই, তবু সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করল পুলিশ

    অভিযোগ নেই, তবু সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করল পুলিশ

    দুই ফুটবলারের নারীসঙ্গের ছবিটি জাকার্তায়!

    দুই ফুটবলারের নারীসঙ্গের ছবিটি জাকার্তায়!

    ‘মাঠে উপস্থিত থাকতে  হবে ঊর্ধ্বতনদের’

    ‘মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে ঊর্ধ্বতনদের’

    ধনীর পাঙাশ গরিবের পাতে দিলেন যে বিজ্ঞানী

    ধনীর পাঙাশ গরিবের পাতে দিলেন যে বিজ্ঞানী

    গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও বার্তা আখতারুজ্জামানের, যা বলেছেন

    গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও বার্তা আখতারুজ্জামানের, যা বলেছেন

    অ্যাকশনে বিএনপি, দেখছে না পদ-পদবিও

    অ্যাকশনে বিএনপি, দেখছে না পদ-পদবিও

    থানার সামনে ওসির গাড়িচালককে মারধর, যুবদল নেতা আটক

    থানার সামনে ওসির গাড়িচালককে মারধর, যুবদল নেতা আটক

    বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে ‘লাঞ্ছনা’, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

    বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে ‘লাঞ্ছনা’, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

    জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

    জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

    শুল্কমুক্ত মদ মজুদ : সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা

    শুল্কমুক্ত মদ মজুদ : সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা

    এমপির হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত প্রতিবন্ধী নারীসহ ৩ বোন

    এমপির হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত প্রতিবন্ধী নারীসহ ৩ বোন

    প্রিয় ৫ বই

    প্রিয় ৫ বই

    ময়মনসিংহে বাসচাপায় প্রাণ গেল ৭ জনের

    ময়মনসিংহে বাসচাপায় প্রাণ গেল ৭ জনের