কাতারের প্লেনে নয়, পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই উড়বেন ট্রাম্প

ছবি: রয়টার্স
তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজ নয়, পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কাতারের উপহার দেওয়া সংস্কারকৃত বোয়িং ৭৪৭ বিমানকে নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল জেট হিসেবে উন্মোচনের পর তার এই সিদ্ধান্ত জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের।
তুরস্ক সফরই ছিল নতুন উড়োজাহাজটির প্রথম আন্তর্জাতিক সফর।
বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজ সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে কাতারের দেওয়া বিলাসবহুল উড়োজাহাজটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ছিল। এ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছিল।
সমালোচকেরা বিমানটির সংস্কার ব্যয়, নিরাপত্তা এবং দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ‘পুরনো দিনের স্মৃতির জন্য’ তিনি পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাজ্যের আরএএফ মিলডেনহলে যাবেন। একই সময়ে নতুন উড়োজাহাজটিও সেখানে যাবে, যাতে ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যরা সেটি ঘুরে দেখতে পারেন।
নতুন উড়োজাহাজটি কাতার গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেয়। পরে প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলথ্রি হ্যারিস টেকনোলজিস এটি সংস্কার করে।
ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী উড়োজাহাজটিকে লাল, সাদা, গাঢ় নীল ও সোনালি রঙে রাঙানো হয়েছে, যা কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত এয়ার ফোর্স ওয়ানের প্রচলিত নকশা থেকে ভিন্ন।
কাতারের দেওয়া এই উড়োজাহাজ গ্রহণের পর থেকেই তা ব্যাপক নজরদারির মধ্যে ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিকে প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, আড়িপাতা ঠেকাতে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সংযোজন করতে হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দাবি, উড়োজাহাজটি সংস্কারে ১০০ কোটির বেশি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং এতে নিরাপত্তা ঝুঁকিও রয়েছে। তাদের মতে, কাজটি এত দ্রুত শেষ করা হয়েছে যে বর্তমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের তুলনায় নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা কম হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের সময় সবসময় বিকল্প হিসেবে আরেকটি এয়ার ফোর্স ওয়ান প্রস্তুত রাখা হয়।
দ্রুত উড়োজাহাজটি প্রস্তুত করতে গিয়ে বিমানবাহিনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজের জন্য পরিকল্পিত কিছু পরিবর্তন বাদ দেয়, যাতে অন্তর্বর্তী সংস্করণটি দ্রুত হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।
তবে কর্মকর্তাদের দাবি, উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবহারের সব মানদণ্ড পূরণ করে। বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক বলেছেন, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি নিরাপত্তা ও কারিগরি চাহিদা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
কাতারের এই উড়োজাহাজটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যতক্ষণ না বোয়িং ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত ৩৯০ কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় বিশেষভাবে নির্মিত দুটি নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজ সরবরাহ করছে।
তবে প্রকল্পটি এখন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে চার বছর পিছিয়ে রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ের আগে সরবরাহ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজ তিনি নাও পেতে পারেন।
এদিকে বোয়িংয়ের এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৫০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। প্রকল্পটির কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ইতোমধ্যে কয়েকশ কোটি ডলারের অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি বহন করতে হয়েছে।




