কখন জানা যাবে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল?
- বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় বন্ধ হবে প্রথম ভোটকেন্দ্র, এরপর আসতে থাকবে ফল
- কংগ্রেস কার দখলে যাচ্ছে, তা জানতে কয়েক দিনও লাগতে পারে

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন একজন ভোটার। ছবি- রয়টার্স
আমেরিকায় ভোটের লড়াই। আর তার ফলের অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব। কে নিয়ন্ত্রণ করবেন মার্কিন কংগ্রেস? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা কি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবেন, নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাবে ক্ষমতার ভারসাম্য? মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কখন থেকে জানা যাবে ফল?
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আল-জাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। বাংলাদেশে তখন বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর ৫টা। এরপর শুরু হতে পারে প্রাথমিক ফল প্রকাশ। তবে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হতে পারে কয়েক দিন।
এবার প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রয়েছে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে।
বাংলাদেশ সময় কখন কোথায় ভোট শেষ হবে?
বুধবার ভোর ৫টায় ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু এলাকায় প্রথম ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
ভোর ৬টায় জর্জিয়া, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডার অধিকাংশ এলাকা, নিউ হ্যাম্পশায়ারের অধিকাংশ এলাকা এবং ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির অবশিষ্ট এলাকায় ভোট শেষ হবে।
ভোর সাড়ে ৬টায় উত্তর ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা।
সকাল ৭টায় পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, মেইন, ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ইলিনয়, আলাবামা, ডেলাওয়্যার, মিসিসিপি, মিসৌরি, ওকলাহোমা, রোড আইল্যান্ড ও টেনেসিতে ভোট শেষ হবে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ডিসি এবং ফ্লোরিডা, ক্যানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে। নিউ হ্যাম্পশায়ারের অবশিষ্ট এলাকার ভোটও তখন শেষ হবে।
সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে আরকানসাসে।
সকাল ৮টায় নিউইয়র্ক, অ্যারিজোনা, কলোরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, উইসকনসিন ও ওয়াইয়োমিংয়ে ভোট শেষ হবে। একই সময়ে ক্যানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের অবশিষ্ট এলাকায় বন্ধ হবে ভোটগ্রহণ।
সকাল ৯টায় মন্টানা, নেভাডা, ইউটাহ এবং আইডাহো ও অরেগনের কিছু এলাকায় ভোট শেষ হবে।
সকাল ১০টায় ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য এবং আইডাহো ও অরেগনের অবশিষ্ট এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
সকাল ১১টায় হাওয়াই ও আলাস্কার অধিকাংশ এলাকায় ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে।
সবশেষে বুধবার দুপুর ১২টায় আলাস্কার পশ্চিমাঞ্চলীয় আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের অবশিষ্ট এলাকায় ভোট শেষ হওয়ার কথা।
কোন অঙ্গরাজ্যের ফল আগে আসতে পারে?
আল-জাজিরার হিসাবে, ফ্লোরিডা, ওহাইও, উত্তর ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন তুলনামূলক দ্রুত ফল প্রকাশ করতে পারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫১ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোটের ফল পাওয়া গিয়েছিল।
ওহাইওতে প্রথম ফল এসেছিল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩৬ মিনিটে। সকাল ১০টা ৩ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল।
উত্তর ক্যারোলাইনায় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটের ফল পাওয়া যায়। পেনসিলভানিয়ায় সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল সকাল ১১টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত।
কোথায় ফল জানতে দেরি হতে পারে?
আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, নেভাডা, মেইন ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি আসনে ফল জানতে বেশি সময় লাগতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনে ডাকযোগে ভোটের প্রচলন বেশি। ভোটপত্র পৌঁছানো, যাচাই ও গণনায় কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
অ্যারিজোনায় নির্বাচনের দিন জমা পড়া ডাকযোগের ভোটের স্বাক্ষর যাচাই করতে হয়। নেভাডায় নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া ভোটপত্র পরবর্তী চার দিন পর্যন্ত গ্রহণ করা হতে পারে। স্বাক্ষরের ত্রুটি সংশোধনের সময়ও রয়েছে।
আলাস্কা ও মেইনে চালু রয়েছে পছন্দক্রমভিত্তিক ভোটপদ্ধতি। প্রথম গণনায় কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে অতিরিক্ত গণনার প্রয়োজন হতে পারে। আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে পরবর্তী গণনা ১৮ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে।
কখন নিশ্চিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ?
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। কিন্তু কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ভোটের ব্যবধান সামান্য হলে পুরো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে সময় লাগতে পারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে লেগেছিল আট দিন।
এবারও অনেক আসনে বুধবারের মধ্যেই বিজয়ী নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু সব আসনের হিসাব চূড়ান্ত হতে আরও সময় লাগতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সংবাদমাধ্যম ভোটের হিসাব বিশ্লেষণ করে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু সরকারি ফল চূড়ান্ত হয় নির্ধারিত যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে। ফলে প্রাথমিক ফল এবং আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ফলের সময় এক নয়।
ফল নিয়ে বিরোধ হলে কী হবে?
কোনো আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী পুনর্গণনা হতে পারে। আদালতেও ফল চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি মেনে নেব।’
তবে প্রেসিডেন্ট কোনো ফলের সঙ্গে একমত না হলেই তা বাতিল করতে পারেন না। নির্বাচনী ফল যাচাই ও অনুমোদনের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
সুতরাং বুধবার ভোরে শুরু হতে পারে ফলের প্রথম আভাস। কিন্তু ওয়াশিংটনের ক্ষমতার পূর্ণ হিসাব জানতে আরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। কারণ, মার্কিন রাজনীতির এই লড়াইয়ে শুধু কে এগিয়ে আছেন, তা নয়। শেষ পর্যন্ত কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় আসন অর্জন করছে, সেটিই নির্ধারণ করবে আগামী দুই বছরের কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ।



