‘সব দায় ট্রাম্পের!’ নির্বাচনী বিপর্যয়ে রিপাবলিকান শিবিরে ঝড়
- ‘এ এক ভয়াবহ বিপর্যয়’, ভোটে ভরাডুবির দায় প্রেসিডেন্টের ঘাড়েই চাপাচ্ছেন দলের নেতারা
- ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি আর বিতর্কিত নীতিতে বিপাকে ট্রাম্প?

ভোটের বাক্সে পরাজয়। তারপর নিজেদের ঘরেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারিয়ে রিপাবলিকানদের একাংশ এখন আঙুল তুলছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। যার হাত ধরে দু’বছর আগে ক্ষমতায় ফিরেছিল দল, সেই নেতাকেই এখন বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বেই কি আস্থা হারাচ্ছেন আমেরিকানরা?
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলিনার মতো রিপাবলিকান ঘাঁটিতেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল। ফল প্রকাশের পর রিপাবলিকান শিবিরে হতাশা দ্রুত রূপ নিয়েছে ক্ষোভে।
টেক্সাসের প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা বিল মিলার বিবিসিকে বলেছেন, ‘দায় তারই। অন্য কারও নয়। ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা।’ তার মন্তব্য, ‘এ এক ভয়াবহ বিপর্যয়। এমনটা কেউ কল্পনাও করেননি।’
মিনেসোটার রিপাবলিকান কৌশলবিদ গ্রেগ পেপিনের কথায়, ‘একের পর এক ভুল হয়েছে।’ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মানুষ যে প্রেসিডেন্টের নীতি পছন্দ করেননি, নির্বাচনী ফলেই তা স্পষ্ট বলে মনে করেন তিনি।
দলের অন্দরে অভিযোগ, ইরান যুদ্ধ, আমদানি শুল্ক ও কঠোর অভিবাসননীতিতে জনঅসন্তোষ বাড়লেও সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ ও জীবনযাত্রার সংকটের বদলে ব্যস্ত থেকেছেন নিজের ভাবমূর্তি আর হোয়াইট হাউসের নির্মাণপ্রকল্প নিয়ে। প্রেসিডেন্টের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ভাষায়, এসব মিলে তৈরি হয়েছিল ‘নিখুঁত ঝড়’।
আমেরিকার ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের আসন হারানো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এবারের ধাক্কা অনেক গভীর। ১৯৩২ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন কানসাসে। টেক্সাসেও কয়েক দশকের পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে।
ট্রাম্প অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি নিজে প্রার্থী হলে বিপুল ব্যবধানে জিততেন। পরে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানান। ইরান যুদ্ধের প্রভাবও স্বীকার করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও সরাসরি যুদ্ধকেই পরাজয়ের কারণ বলেছেন।
তবে ট্রাম্পের সমর্থকদের যুক্তি, দুর্বল প্রার্থীদের দায়ও কম নয়। সব ব্যর্থতা প্রেসিডেন্টের ঘাড়ে চাপানো অন্যায়।
এদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং তাঁর নীতিতে বাধা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা।
দু’বছর আগে যে ট্রাম্প ছিলেন রিপাবলিকানদের বিজয়ের প্রতীক, আজ তাঁর নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে। প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার লড়াইয়ের চেয়েও কি এবার কঠিন হয়ে উঠবে নিজের শিবিরের আস্থা ধরে রাখার যুদ্ধ?



