যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কড়াকড়িতে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী
- ঝুঁকিতে বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি
- ৪০ হাজার চাকরি নিয়ে শঙ্কা

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কমতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাফসা ও জেবি ইন্টান্যাশনালের সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার কমতে পারে। এতে অর্থনীতিতে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের অবদান হারানোর পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর হওয়া, আবেদন ও অনুমোদন কমে যাওয়া এবং অভিবাসন নীতিতে অনিশ্চয়তা এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেন না; আবাসন, খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, কেনাকাটা ও অন্যান্য স্থানীয় সেবাতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। ফলে শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা ও কমিউনিটিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় কমার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। তবে ভিসা নীতি ও অভিবাসন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
ফলে বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি এখন শুধু শিক্ষা খাতের সমস্যা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা নেতৃত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।






