ব্যাপক ছাঁটাইয়ের পর ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশক লুইসের পদত্যাগ

সংগৃহীত ছবি
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উইল লুইস পত্রিকাটি ছাড়ছেন। চলতি সপ্তাহে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের পর গতকাল শনিবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনলাইনে প্রকাশিত কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় লুইস বলেন, আমার দায়িত্বকালে পত্রিকার টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যাতে আগামী বহু বছর ধরে এটি প্রতিদিন লাখো পাঠকের কাছে উচ্চমানের, দলনিরপেক্ষ সংবাদ পৌঁছে দিতে পারে।
তার এই বার্তাটি অনলাইনে শেয়ার করেন পত্রিকাটির হোয়াইট হাউস ব্যুরো প্রধান ম্যাট ভাইসার।
ডাও জোন্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশক লুইসকে ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় পত্রিকাটি গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়ে। তিনি প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করা ফ্রেড রায়ানের স্থলাভিষিক্ত হন।
পোস্ট জানিয়েছে, জেফ বেজোসের মালিকানাধীন এই পত্রিকার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জেফ ডি’অনোফ্রিও অস্থায়ীভাবে প্রকাশক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি গত জুনে পত্রিকাটিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি গুগল ও ইয়াহুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
শনিবার কর্মীদের পাঠানো এক ইমেইলে ডি’অনোফ্রিও লেখেন, গ্রাহকদের তথ্য আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পথনির্দেশ দেবে এবং আমাদের পাঠকদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়গুলো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা আরও শাণিত করবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলো বলেছে, লুইসের পদত্যাগ ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
ওয়াশিংটন পোস্ট গিল্ড বিবৃতিতে জানায়, ‘উইল লুইসের বিদায় বহু আগেই হওয়া উচিত ছিল। তবে এখনো পোস্টকে রক্ষা করার সময় আছে। জেফ বেজোসকে অবিলম্বে এই ছাঁটাই প্রত্যাহার করতে হবে, অথবা পত্রিকাটি এমন কারও কাছে বিক্রি করতে হবে, যিনি এর ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক।’ ২০১৩ সালে পত্রিকাটি কিনে নেন বেজোস।
এমন এক সময় লুইস পদত্যাগ করলেন যার কয়েক দিন আগেই পত্রিকাটি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। গত বুধবারে ছাঁটাইয়ের সময় যদিও লুইসের অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা হয়। পত্রিকার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক মার্টি ব্যারন এটিকে পত্রিকার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন।
পোস্টে দায়িত্ব পালনকালে লুইস একাধিক দফা কর্মী ছাঁটাইয়ে তদারকি করেন। পত্রিকাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার পর ও মতামত পাতাকে আরও উদার দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নেওয়ার ফলে শত শত গ্রাহক হারানোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
গ্রাহক হারানোর আগেই লুইসের অবস্থা ছিল টালমাটাল। ২০২৪ সালে তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক স্যালি বাজবির সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তার বিদায়ের পর, ব্রিটিশ সাংবাদিক ও সাবেক সহকর্মী রবার্ট উইনেটকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টায় নিউজরুমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন তিনি। উইনেট ফোন হ্যাকিং কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার সঙ্গে লুইসের নামও যুক্ত ছিল। আর লুইসের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ ‘তৃতীয় নিউজরুম’ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িতই হয়নি।



