ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে পারমাণবিক অস্ত্রের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল: কিম

সংগৃহীত ছবি
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্তই যে সঠিক ছিল তা যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ গণপরিষদে মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে কিম যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাস ও আগ্রাসনের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে’ যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও তথাকথিত ‘মিষ্টি কথায়’ প্রভাবিত হয়ে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করার সিদ্ধান্তই ছিল যৌক্তিক।
কিম আরও বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান এখন ‘অপরিবর্তনীয়’।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ তৈরি করেছিল, যদিও তিনি কয়েক মাস আগেই বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে মনে করে, যেসব দেশের পারমাণবিক অস্ত্র নেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মুখে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, আর যাদের আছে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, ইরান সংঘাত সেই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
এই মন্তব্যের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ট্রাম্প কিমের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা ২০১৯ সালে ভেঙে যাওয়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আবার শুরু করতে পারে।
এর আগে এ মাসেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ করে ওয়াশিংটন সফর করে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনীতি পুনরায় শুরু করা, কৌশল সমন্বয় এবং পিয়ংইয়াংয়ের অস্ত্র উন্নয়ন মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা হয়।
কিমের সর্বশেষ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতে কোনো বৈঠক হলে তা আগের মতো নিরস্ত্রীকরণকেন্দ্রিক হবে না। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে এবং তাদের কথিত ‘বৈরী নীতি’ পরিত্যাগ করে, তবেই তিনি আলোচনায় আগ্রহী।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে ‘পারমাণবিক সক্ষম’ রকেটের মহড়া চালিয়ে তাদের সামরিক সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে।




