খুলছে মেসির দেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ, লাগবে কত টাকা

রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে আর্জেন্টিনার ফুটবল ফ্যানদের একাংশ। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
মেসির বাঁ পা আর ম্যারাডোনার জাদুতে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার কোটি কোটি ভক্ত। নীল-সাদা জার্সির প্রতি সেই ভালোবাসা যদি একদিন পাসপোর্টের স্বপ্নে বদলে যায়?
সেই স্বপ্নের দরজা এবার কিছুটা খুলছে। তবে আবেগ দিয়ে নয়, মোটা অঙ্কের ডলার দিয়ে।
প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরকার বিদেশি ধনী বিনিয়োগকারীদের জন্য নাগরিকত্বের দ্রুত পথ চালু করছে। শুক্রবার ডয়চে ভেলে ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আবেদন নেওয়া শুরু হওয়ার কথা।
দ্রুত নাগরিকত্ব পেতে আবেদনকারীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে ফেরতযোগ্য নয়, এমন ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
আরেকটি পথও রয়েছে। ৮ লাখ ডলারের বিশেষ সরকারি বন্ড কিনতে পারবেন আবেদনকারীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে নেওয়া যাবে।
স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত ও নিঃসন্তান সন্তানের জন্য জনপ্রতি দিতে হবে ১ লাখ ডলার। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের জন্য দিতে হবে ২৫ হাজার ডলার।
স্বামী-স্ত্রী ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানসহ চার সদস্যের একটি পরিবারের খরচ দাঁড়াতে পারে ৫ লাখ ডলার, যা প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
তবে টাকা দিলেই পাসপোর্ট হাতে আসবে না। আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই, অর্থের উৎস পরীক্ষা এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিরোধী যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
সরকার বলছে, প্রকৃত বিনিয়োগকারী আকর্ষণ এবং দেশের আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রী লুইস কাপুতো প্যারিসে ‘আর্জেন্টিনা উইক’ অনুষ্ঠানে কর্মসূচিটি ঘোষণা করেছেন। অর্থনীতি মন্ত্রণালয় বলেছে, আর্জেন্টিনাকে ‘আন্তর্জাতিকভাবে আরও উন্মুক্ত ও সংযুক্ত’ করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ এটি।
বিদেশি পুঁজি টানা এবং ডলারের জোগান বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বর্তমান নিয়মে বিদেশিদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে সাধারণত টানা দুই বছর আর্জেন্টিনায় বৈধভাবে বসবাস করতে হয়। তবে ২০২৫ সালে আইন পরিবর্তন করে ‘গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ’ করা বিদেশিদের জন্য বসবাসের সময়সীমা ছাড়াই নাগরিকত্বের পথ তৈরি করা হয়।
নতুন কর্মসূচি সেই সুযোগকেই নির্দিষ্ট অর্থের অঙ্কে নিয়ে এসেছে।
মিলেই সরকার এমন সময়ে এ পরিকল্পনা এনেছে, যখন আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণচাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশটির মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে তা নেমে এসেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশে।
বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-ভক্তদের কাছে খবরটি তাই অন্যরকম। বিশ্বকাপের রাতে যে দেশের পতাকা বাংলাদেশের ছাদে উড়ে, সেই দেশের নাগরিক হওয়ার পথ এবার কিছুটা সহজ হচ্ছে।
তবে মেসির দেশের পাসপোর্ট পেতে চাবি হবে না ভালোবাসা। লাগবে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ।




