ইরানি হুমকিতে তুরস্ক ছাড়তে ট্রাম্পের গোপন ‘পালানোর’ কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার হুমকির কারণে তুরস্ক ছাড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। প্রকাশ্যে পুরোনো প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমানটিতে উঠলেও গোপনে সামরিক পরিবহন বিমান সি৩২এ-তে করে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। এ সময় সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বহনকারী পুরোনো সরকারি বিমানটি ‘ভুয়া লক্ষ্য’ হিসেবে উড়ে যায় যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে।
গত ৮ জুলাই তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে আঙ্কারা বিমানবন্দরে প্রকাশ্যে পুরোনো সরকারি বিমানে উঠতে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসও জানায়, ওই বিমানেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে বিমানে ওঠার কয়েক মিনিট পরই গোপনে বদলে যায় তার যাত্রাপথ।
বিমানে ওঠার পর ট্রাম্পকে বিমানবন্দরের খাবার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। ওই গাড়িতে করে তাকে রানওয়ের অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অপেক্ষমাণ ছোট সামরিক পরিবহন বিমান সি৩২এ-তে ওঠেন তিনি।
অন্যদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তাকে বহনকারী পুরোনো সরকারি বিমানটি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়ে যায়। ট্রাম্প ওই বিমানে না থাকলেও সেটিকে কার্যত ভুয়া লক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এমনকি বিমানে থাকা সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তাও এই গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ফলে কয়েক ঘণ্টা ধরে ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখা সম্ভব হয়।
এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পেছনে ছিল ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে হামলার আশঙ্কার তথ্য পৌঁছানোর পর তার যাত্রাপথ ও বিমানসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ট্রাম্প তুরস্কে গিয়েছিলেন কাতারের দেওয়া নতুন যাত্রীবাহী সরকারি বিমানে। ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ফেরার সময় তিনি হঠাৎ পুরোনো সরকারি বিমানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে নতুন বিমানটিরও যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে যাওয়ার কথা ছিল।
এরপর আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পের পুরোনো সরকারি বিমানে ওঠার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর খাবার সরবরাহকারী গাড়ির মাধ্যমে তাকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ সামরিক বিমানটি পুরোনো সরকারি বিমান ও সাংবাদিকদের বহনকারী বিমানের কয়েক মিনিট আগে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে। পরে ট্রাম্পকে আবার প্রকাশ্যে দেখা যায়।
গোপন এই অভিযানের সময় সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অনেক সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মী তখনও বিশ্বাস করছিলেন, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গেই রয়েছেন।
পরে সাংবাদিকরা জানালার পর্দা বন্ধ রাখার কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, বিমানটি সম্ভবত ‘বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ রয়েছে। তার এই মন্তব্যের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে শুরু হয় আলোচনা।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় ভুয়া লক্ষ্য হিসেবে অন্য বিমান ব্যবহার, গোপন স্থানান্তর এবং প্রকৃত যাত্রাপথ আড়াল করার মতো পদক্ষেপ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে ইরানি হুমকির গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে উঠেছে প্রশ্ন।
একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কঠোর ও গোপন কৌশল গ্রহণ করছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। তুরস্কের রানওয়েতে খাবার সরবরাহকারী গাড়ি, আকাশে ভুয়া লক্ষ্য হিসেবে সরকারি বিমান এবং অন্যদিকে গোপনে উড়ে যাওয়া সামরিক বিমান, ট্রাম্পের সেই যাত্রা হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরল এক উদাহরণ।





