ইউক্রেনের হামলার নিন্দা ইরানের
- হরমুজ সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান ইরানের
- ইয়েমেন সংকটের একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন : বাঘাই

হরমুজ সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের হামলায় কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে তেহরান। এদিকে ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে টেলিফোনে সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এ সময় কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আরাঘচি। এই ঘটনাকে অপরাধমূলক আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও করেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সামরিক পদক্ষেপের পর হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেছেন দুই নেতা।
ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়েও পৃথক বিবৃতি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মন্তব্য করেন, ইয়েমেন সংকটের একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন। তার ভাষ্য, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি সংলাপের পথে ফিরে গিয়ে পূর্বসম্মত রূপরেখা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দাবি করেন, এই পথই ইয়েমেনের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়। বাঘাই আরও মন্তব্য করেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ইয়েমেন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে ইয়েমেন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির স্থাপনাগুলোকে আবারও লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের জবাব দিতেই তারা এই সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। অতীতেও হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের তেল সংরক্ষণাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ধ্বংস করা হয়েছে ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনাকারী ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ নজরদারি বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদাইদাহ শহর ও কামারান দ্বীপে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে হুথিরা দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে শত্রুপক্ষের উড়োজাহাজ।





