রাশিয়াতে নারাজ ব্রিটেন-অস্ট্রেলিয়া, ছবিতেও বিভেদে বিশ্ব

সংগৃহীত ছবি
এক মঞ্চে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। সামনে ক্যামেরা। প্রস্তুত আলোকচিত্রীরা। কিন্তু একসঙ্গে দাঁড়াতেই আপত্তি। কারণ, সেই ছবিতে থাকবেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। শেষ পর্যন্ত ছবি তোলাই বাতিল। কূটনীতির হাসিমুখের আড়ালে কতটা গভীর বিভাজন লুকিয়ে আছে, তারই যেন নতুন উদাহরণ দেখা গেল বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর সম্মেলনে।
আজ শনিবার গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ঐতিহ্যবাহী যৌথ আলোকচিত্র বাতিল করা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধি ছবি তোলা বর্জনের হুমকি দেওয়ায় গতকাল শুক্রবার শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি বাতিল করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ছবিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক যেন মূল আলোচনাকে আড়াল না করে, সে জন্যই এ সিদ্ধান্ত।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল বলেছেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। তাই লাভরভের সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের কোনো যৌথ ছবি হবে না।’
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও একই অবস্থান জানান। তার বক্তব্য, ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে রুশ মন্ত্রীদের সঙ্গে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলছে ব্রিটেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার নির্মম ও বেআইনি আগ্রাসনকে আমরা কখনো স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেব না।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক তলানিতে। সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে নতুন মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
এবারের বৈঠকে আমন্ত্রণ পায়নি ইউক্রেন। বাদ পড়েছে জি-২০-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দক্ষিণ আফ্রিকাও। অথচ সদস্য নয় এমন পোল্যান্ডকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।
তবে ছবি বাতিল হলেও আলোচনা বন্ধ হয়নি। রুবিও বলেছেন, বিশ্ব এখন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান সংকট, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে যৌথ ঘোষণা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।



