ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে বিক্ষোভ, রাজপথে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ

মঙ্গলবার সকালে সাঁ-দেনির পল-এলুয়ার লিসেতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
শিক্ষকসংকট, জীর্ণ স্কুল ভবন ও শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগের ঘাটতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের রাজপথ। চলমান ছাত্র আন্দোলনের তৃতীয় সপ্তাহে মঙ্গলবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন ও বামপন্থী বিরোধী দলগুলোর কর্মীরা। প্যারিসের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।
মঙ্গলবার সকালে প্যারিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাঁ-দেনি এলাকার লিসে পল এলুয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন ২৩ বছর বয়সী গ্রেটা। এ সময় তার কাঁধে ছিল ফিলিস্তিনি কেফিয়াহ। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, তাদের আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে। ‘আমাদের ভবিষ্যৎ চুরি করা হচ্ছে। স্কুলগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ বা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।’
শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়ে গ্রেটা বলেন, ফরাসি তরুণেরা নিজেদের অধিকার আদায়ে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ। গত সপ্তাহের বড় মিছিলগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন বামপন্থী বিরোধী দল আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ব্যাহত হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অনেক উচ্চবিদ্যালয়ও।
তবে রাজধানী প্যারিস ও নান্তেসে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ। আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। এর আগে বিক্ষোভের সময় পুলিশের স্টান গ্রেনেড ব্যবহারে এক তরুণের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আরেকজনের চোখ ও দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছে।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি শিক্ষকসংকটে থাকা স্কুলগুলোতে ৩ হাজার খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দেশটির ৩ হাজার ৭০০টি উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ২১৪টি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের মতে, সরকারের এসব উদ্যোগ সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়।
একদিকে জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি কমানোর চাপ রয়েছে। দুই দিক সামলাতে গিয়ে চাপে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকার। ছয় মাস পর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলনকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, স্কুল বন্ধ রাখা কিংবা সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন থামবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন ও অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আগামী শনিবার জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে আরও বড় দেশব্যাপী বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। এতে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মীরাও যুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।




