কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণ। ছবি: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার লোহারংক খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সরকারি খালটির বিভিন্ন অংশ ভরাট করে কাঁচা ও পাকা ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন তারা।
সম্প্রতি প্রশাসন খালটির সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান টাঙালেও এখনো দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়দের অনেকে।
উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের লোহারংক গ্রামের মনির বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাস, বাবুল মোল্লা, ইমারত মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া, সেকেন্দার দাড়িয়া, আউয়াল দাড়িয়া, মানির দাড়িয়া, কাসেম দাড়িয়া, ইব্রাহিম দাড়িয়া, কিবরিয়া বিশ্বাস ও রতন দাসসহ স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
খালটি দখলমুক্ত করার দাবিতে সম্প্রতি লোহারংক গ্রামের ফরিদ দাড়িয়াসহ শতাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে খালটির সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করেন। কয়েক দিন ধরে মাপজোখ করে দখল করা অংশ চিহ্নিত করা হলেও এখনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি।
আবেদনকারী ফরিদ দাড়িয়া জানিয়েছেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালটি দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন।
ফরিদ দাড়িয়া আরও জানালেন, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা খালটি মেপে সীমানা চিহ্নিত করেছেন এবং লাল নিশান টাঙিয়েছেন। তবে এরপর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও খালটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে দখলদার হিসেবে চিহ্নিত মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া জানালেন, তার দলিলভুক্ত জমির ওপর দিয়ে গ্রামের মানুষ সরকারি রাস্তা নির্মাণ করায় তাকে খালের জায়গা দেওয়া হয়েছে। রাস্তার জায়গা তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলে তিনি খালের জায়গা ছেড়ে দেবেন।
অন্য অভিযুক্ত মনির বিশ্বাস জানালেন, খালের জায়গা দখল করে তিনি ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন। প্রশাসন তাকে ছেড়ে দিতে বললে তিনি জায়গাটি ছেড়ে দেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন জানিয়েছেন, খালটির মাপজোখ করে সীমানা নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে। এ কাজ শেষ হলে দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




