হবিগঞ্জে জাল ওয়ারিশান সনদে হরিজন পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
১৯৭১ সালে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান সুরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত। এরপর আর এলাকায় ফেরেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তার কোনো উত্তরাধিকারীও নেই। তার রেখে যাওয়া ৩৩ শতাংশ জমির খাস খতিয়ানের অংশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে তিনটি রবিদাস পরিবার। তবে প্রায় ৫৫ বছর পর ওই জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া উত্তরাধিকারী সাজিয়ে জাল ওয়ারিশান সনদ ও দলিল তৈরির মাধ্যমে জমি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় মনি রবিদাস নামে এক নারী সম্প্রতি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে ২২ জনকে।
মনি রবিদাসের অভিযোগ, ১৯৭১ সালে সুরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভারতে চলে যান। পরে তিনি আর এলাকায় ফেরেননি এবং কোনো উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন— এমন তথ্যও স্থানীয়ভাবে জানা নেই। সাতকাপন গ্রামের ৩৩ শতাংশ জমির খাস খতিয়ানের অংশে তারাসহ তিনটি রবিদাস পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। ২০২৩ সালে শাহিন মিয়া ও জুয়েল মিয়া সুরেন্দ্র চন্দ্র দত্তের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিজয় চন্দ্র দত্ত ও সুরমিলা চন্দ্র দত্তের নাম উল্লেখ করে সাতকাপন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ওয়ারিশান সনদ নেন। পরে ওই সনদ ব্যবহার করে ২০০০ সালে তৈরি করা হয়েছে— এমন একটি কথিত দলিল রেজিস্ট্রি করে জমিটি ২২ জনের কাছে বিক্রি করা হয়।
সাতকাপন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রোমান রায় বলেছেন, ২০২৩ সালে যে ওয়ারিশান সনদটি দলিল নিবন্ধনের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদে এর কোনো রেকর্ড নেই। চেয়ারম্যান ও সদস্যের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে বলে তার দাবি।
অভিযোগকারী মনি রবিদাস বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা জায়গা থেকে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখল করা হলে তাদের পরিবারগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে।



