ড. ইউনূসকে হেনস্তার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল— সূর্যের দিকে ঢিল ছুড়লে কী হয়

ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ বিষয়ে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘সূর্যের দিকে ঢিল ছুড়ে মারলে কী হয়? কতটা আলো আড়াল হয় তাতে?’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘‘হুইলচেয়ারে একা একটা মানুষ। তার সামনে হঠাৎ এসে চিৎকার করে ‘টেররিস্ট’, ‘ট্রেইটর’ বলে দিলেন, আর তার মান-সম্মান চলে গেল! কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা!’’
তিনি লিখেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট খুনি শাসকের দোসর-অনুসারী এবং হৃদয়ে বাকশালধারী সুশীল বাবুরা, ভালো করে শোনেন। আপনারা সুদূরতম কল্পনাতেও বুঝতে পারবেন না, ড. ইউনূস কতটা শ্রদ্ধেয় মানুষ সারা পৃথিবীতে। তার কাজ কতটা অনুকরণীয় হয়েছে সারা বিশ্বে। এমনকি আপনাদের প্রিয় ভারতেও! ভারতের দুই আইনসভার যৌথ অধিবেশন ডেকে কাকে সম্মানিত করা হয়েছিল, মনে আছে?’
‘আপনাদের মালকিন বা প্রভুদের দৌড় রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত। আর ড. ইউনূসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে বিল গেটসের! আমি নিজে শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি, রাজা-রানি আর করপোরেট দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের দেখেছি তার সান্নিধ্যে আপ্লুত হতে। তাকে তন্ময় হয়ে শুনতে।’
আসিফ নজরুল আরও লিখেছেন, ‘আর আপনি তুচ্ছ এক জীবনযাপন করা মানুষ, ড. ইউনূসকে সন্ত্রাসী বলে একটা হাঁক দিলেন, মিথ্যে গালাগাল করলেন— এতে তার কী ক্ষতি হবে? সূর্যের দিকে ঢিল ছুড়ে মারলে কি হয়? কতটা আলো আড়াল হয় তাতে?’
এর আগে সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। পরে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে তাকে হেনস্তা করে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে নানা মন্তব্য করছেন কয়েকজন প্রবাসী। তাদের মুখে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’, ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’ এবং ‘ইউ কিল্ড থাউজেন্ডস অব পুলিশ’— এ ধরনের বক্তব্য শোনা যায়।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া ঘটনার পর নিরাপত্তাকর্মীরা ড. ইউনূসকে দ্রুত সেখান থেকে নিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদও দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।
হেনস্তাকারী প্রবাসীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তারা দেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে দাবি করছেন।



