ইরাকে চালানো সৌদি বিমান হামলাকে সমর্থন পাকিস্তানের

সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের ইরাকে চালানো বিমান হামলাকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ বলেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে করা সব প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা তারা পালন করবে। তবে এসব চুক্তি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি।
সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বললেন, ‘জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং আমরা সেই অধিকারকে সম্মান করি।’
দুই দিন আগে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটসের (পিএমইউ) কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। তাদের অভিযোগ, এই জোটের কিছু অংশ সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্দ্রাবি বললেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চল, হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবহির্ভূত গোষ্ঠীগুলোর হামলা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়।’
গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট নৌযানের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ ঘোষণার পর পাকিস্তান যে সতর্কবার্তা দিয়েছিল, এ বক্তব্য তারই ধারাবাহিকতা।
তখন ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, পাকিস্তানের সামুদ্রিক স্বার্থে হামলা ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক নৌযানের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বৈধ বাণিজ্যিক নৌ চলাচল অব্যাহত রাখা এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিল দেশটি।
গত বছর ইসলামাবাদ ও রিয়াদ একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে, যা চলতি বছরের শুরুতে কার্যকর হয়। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার কূটনৈতিক উদ্যোগও শুরু করে পাকিস্তান।
সম্প্রতি কুয়েতও ২০২৩ সালে সই করা পৃথক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া বাহরাইন ও জর্ডানের সঙ্গেও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে।
কুয়েতের সঙ্গে চুক্তিতে সৌদি আরবের সঙ্গে করা কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো একই ধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দ্রাবি বললেন, ‘দুটি চুক্তি এক নয়। একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, অন্যটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি। নাম থেকেই পার্থক্য স্পষ্ট।’
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, বাহরাইন ও জর্ডানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
আন্দ্রাবি বললেন, ‘জর্ডান ও বাহরাইনের সঙ্গে আমাদের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি নতুন কোনো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির প্রয়োজন হয়, যথাসময়ে সে বিষয়ে আপনাদের জানানো হবে।’
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের বিষয়ে তিনি বললেন, ‘শুধু সৌদি আরব নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের সব অংশীদারের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি আমরা বাস্তবায়ন করব। আমাদের সব দায়বদ্ধতা আমরা পালন করব।’
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এসব চুক্তির কার্যকারিতারও একটি সীমা রয়েছে।
তার ভাষায়, ‘এই চুক্তিগুলোর মূল উদ্দেশ্য শান্তিকালীন সহযোগিতা। যুদ্ধ শুরু হলে দুই পক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে, কোন পর্যায় পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে।’
উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন আন্দ্রাবি।
তিনি বললেন, ‘বর্তমান উত্তেজনা ও বৈরিতার মধ্যে পাকিস্তান আবারও মনে করে, সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ।’






