যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাপে যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজার, কমেছে বাড়ির দাম

প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে চাপে পড়েছে যুক্তরাজ্যের আবাসন খাত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ঊর্ধ্বমুখী মর্টগেজ সুদের কারণে বাড়ি কেনার আগ্রহ কমেছে ক্রেতাদের। ফলে গেল মাসে বাড়ির দাম কমেছে দেশটিতে।
যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম মর্টগেজ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হ্যালিফ্যাক্স জানিয়েছে, প্রতিটি বাড়ির গড় দাম ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৬৭৭ পাউন্ডে। প্রতিষ্ঠানটির মর্টগেজ প্রধান আমান্ডা ব্রাইডেন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, যার ফলে বেড়েছে মর্টগেজ সুদের হারও। আর ঋণগ্রহণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে আবাসন বাজারে।
অন্যদিকে, আর্থিক তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মানিফ্যাক্টস জানিয়েছে, দুই বছরের নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার মার্চের শুরুতে ৪.৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৫.৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর বাড়তে থাকে তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির খবরে জ্বালানির দাম কিছুটা কমলেও তা সংঘাতপূর্ব সময়ের তুলনায় এখনও অনেক বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কত দিন স্থায়ী হয় এবং তা মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানে কী প্রভাব ফেলে, তার ওপরই নির্ভর করছে আবাসন বাজারের ভবিষ্যৎ।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পরিস্থিতি শান্ত হলে স্থিতিশীল হতে পারে মর্টগেজ সুদের হার। তবে এখনো সতর্ক অবস্থানে আছেন ঋণদাতারা। মানিফ্যাক্টসের অ্যাডাম ফ্রেঞ্চ বলেছেন, ‘সুদের হার দ্রুত বাড়া থামতে পারে, কিন্তু নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের পতনের সম্ভাবনা কম।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসগুলোতে বাড়ির দাম ওঠানামা করতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে থাকবে মাঝারি ধরনের স্থিতিশীলতা।
















