ইসলামাবাদে মসজিদে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস

ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণের পর শুক্রবার শোকাহত একজনকে স্বান্তনা দিচ্ছেন অন্য আরেকজন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বন্দুক ও বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জঙ্গি সংগঠনটি জানায়, তাদের এক হামলাকারী প্রথমে গুলি চালায়, পরে শিয়া মসজিদটিতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলার সময় মসজিদে প্রায় ৭০০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএস আরও একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী হামলাকারীর। ছবিতে দেখা যায়, অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তির মুখ ঢাকা এবং চোখ ঝাপসা করা। ছবিটি পাকিস্তানের রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত খাদিজা তুল কুবরা ইমামবারগাহ প্রাঙ্গণে তোলা বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, হামলাকারী ‘নামাজিদের শেষ সারিতে নিজেকে উড়িয়ে দেয়’। তিনি আরও দাবি করেন, ওই বোমারু আফগানিস্তান সফর করেছিল এবং হামলার পেছনে ভারতের মদদ রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাটির নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের ওই বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘নিজেদের সামাজিক কাঠামোর সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করার পরিবর্তে পাকিস্তান অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকে বিভ্রান্ত করছে—এটি দুর্ভাগ্যজনক।’
প্রত্যক্ষদর্শী ৪৬ বছর বয়সী সারফরাজ শাহ রয়টার্সকে জানান, তিনি প্রতি শুক্রবারের মতোই তার ছোট ভাই ৩৯ বছর বয়সী মানজারের সঙ্গে মসজিদে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি গুলির শব্দ শুনি এবং কী ঘটছে বোঝার চেষ্টা করছিলাম, ঠিক তখনই প্রচণ্ড একটি বিস্ফোরণ হয়।’ তিনি ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে কথা বলছিলেন।
সারফরাজ শাহ বলেন, ‘বিস্ফোরণে মানুষ ছিটকে পড়ে। চারদিকে ধোঁয়া ছিল। কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না। তারপরই চারদিকে রক্ত দেখা যায়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পর হাসপাতালে এসে তিনি জানতে পারেন, নিহতদের মধ্যে তার ভাই মানজারও রয়েছেন।
প্রধানত সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া মুসলমানরা এর আগেও ইসলামিক স্টেট এবং সুন্নি ইসলামপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের হামলার লক্ষ্য হয়েছেন।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিদের তারা আশ্রয় দেয়, এমন দাবি কাবুল বারবার অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র : দ্য টাইমস



